কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাইয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেন। ৫ সদস্যের এই কমিটির পরিসর বাড়িয়ে ৭ সদস্য বিশিষ্ট করা হয়েছে এবং তদন্তকাজ শেষ করতে সময় দেওয়া হয়েছে পাঁচ দিন।
কমিটি প্রধানের দায়িত্বে আছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান। তার নেতৃত্বে অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মরদেহগুলো পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর নিকটাত্মীয়দের অনেকে তদন্ত কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাদের নাম-ঠিকানাসহ বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
রিসোর্টটি নির্মাণের সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কিনা এবং অগ্নিনিরাপত্তাসহ অন্যান্য নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল কিনা— তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের সঙ্গে রিসোর্টের নথিপত্র ও অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কমিটিতে বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা রয়েছেন এবং তারা নিজ নিজ ক্ষেত্র থেকে কারিগরি বিষয়গুলো মূল্যায়ন করবেন। বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ও তদারকির ক্ষেত্রে সমন্বয়ের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ধ্বংসস্তূপে আরও একজনের খোঁজে তল্লাশি
এদিকে অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার হওয়া ১০ জনের মরদেহের বাইরে আরও একজন নিখোঁজ থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তার সন্ধানে রোববার আবারও ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার বলেন, শনিবার অগ্নিকাণ্ডের পর ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১১ জন নিখোঁজ থাকার বিষয়টি সামনে আসে।
তিনি বলেন, হিসাব অনুযায়ী এখনো একজন ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। গতকাল (শনিবার) অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে ধ্বংসস্তূপের সব জায়গায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খোঁজা সম্ভব হয়নি। রিসোর্টটির ওপরের তলাগুলো কাঠের তৈরি হওয়ায় সেগুলো ভেঙে নিচে পড়েছে। ফলে নিচতলায় কেউ চাপা পড়ে থাকতে পারেন। এ কারণে নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে নতুন করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় ফরেনসিক পরীক্ষার আগে সেগুলো ১০ জনের, নাকি এর চেয়ে বেশি মানুষের তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করছে পুলিশ
তদন্ত কমিটির প্রধান তাসনীম জাহান জানান, আরও একজনের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলেও অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি রিসোর্টের ভেতরে ছিলেন, নাকি বাইরে ছিলেন—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওই ব্যক্তির অবস্থান নিশ্চিত করতে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও তদন্তকারী দল মোবাইল ফোন নম্বরের তথ্য বিশ্লেষণ করে খোঁজ নিচ্ছে।
গতকাল শনিবার মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবস্থিত টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লাগার পর উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে দুপুরে ১০ জনের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় ফায়ার সার্ভিস।
এদিকে এ ঘটনায় রিসোর্ট মালিক তানভীর ও আরও ৩ জনের নাম উল্লেখসহ ১৯ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে মামলায় গ্রেপ্তার রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার সুমনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ইফতিয়াজ নুর নিশান/আরএআর
