চট্টগ্রাম বন্দরে ভারী পণ্য ওঠানো-নামানোর সুবিধা বাড়াতে লালদিয়ার ব্লক-এ এলাকায় ওই হেভি লিফট কার্গো জেটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
Published : 12 Oct 2026, 07:42 PM
Updated : 12 Oct 2026, 07:42 PM
চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়ায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভারী পণ্য ওঠানো-নামানোর জেটি নির্মাণ কাজের অগ্রগতি এক বছরেও দৃশ্যমান হয়নি। এ কারণে জেটিটি নির্মানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারক বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
জাতীয় সংসদ ভবনে সোমবার সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির পঞ্চম বৈঠকে উপস্থাপিত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কার্যপত্রে এ তথ্য উঠে এসেছে।
কার্যপত্র অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরে ভারী পণ্য ওঠানো-নামানোর সুবিধা বাড়াতে লালদিয়ার ব্লক-এ এলাকায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামোসহ একটি হেভি লিফট কার্গো জেটি নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হয়। এর প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ২৯৯ কোটি ৮২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল নৌবাহিনীকে।
জেটি নির্মানে ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও নৌবাহিনীর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকও সই হয়েছিল। তখন ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে জেটির নির্মাণ কাজ শেষের আশা প্রকাশ করেছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে প্রকল্পের শুরু থেকে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় নতুন নির্দেশনা দেয়।
নির্দেশনায় বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে সরকারি ক্রয় বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ২৬(২) অনুসরণ করে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। এরপর নৌবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা বাতিলের উদ্যোগ নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তৈরি কার্যপত্রে বলা হয়েছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর তারা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠায়। এতে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ হয়ে নৌবাহিনীর কাছে সমঝোতা বাতিলের অনুরোধ পাঠানোর কথা বলা হয়।
সংসদীয় কমিটিতে উপস্থাপিত এসব তথ্যের বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রকল্পটি বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে এখনও কিছু চূড়ান্ত হয়নি।”
নৌবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা বাতিলের উদ্যোগের বিষয়ে তার ভাষ্য, “প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে”।
তবে সমঝোতা বাতিলের প্রক্রিয়া কবে শেষ হবে, নতুন দরপত্র কবে আহ্বান করা হবে কিংবা নির্মাণকাজ কবে শুরু হতে পারে সে বিষয়ে কার্যপত্রে কিছু বলা হয় নি।
এ দিন সংসদীয় কমিটির বৈঠকে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা বন্দরের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, পরিচালন কার্যক্রম এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকের পর সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বন্দরগুলোর প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কমিটির সভাপতি ও সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
