মণিপুরের কাংপোকপী জেলায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় নিহত এক ব্যক্তির কাটা মুন্ডু ফেরানোর দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার চরমসীমা বেঁধে দিল একটি নাগা নাগরিক সংগঠন। শনিবার মকুই অশাং গ্রামে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের হামলায় নিহত হন ৫২ বছর বয়সি অজিনবউ রিংকাঙমাই। রবিবার রাতে তাঁর ধড়হীন দেহ ময়নাতদন্তের জন্য ইম্ফলের জওহরলাল নেহরু ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসে (জেএনআইএমএস) আনা হয়। কিন্তু শনিবারই একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়, যেখানে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ও সেনার পোশাক পরা জঙ্গিদের মাঝে অজিনবউয়ের কাটা মুন্ডু পড়ে থাকতে দেখা যায়।
রবিবার ‘জয়েন্ট ট্রাইব্স কাউন্সিল মণিপুর’ এক বিবৃতিতে জানায়, অজিনবউয়ের কাটা মুন্ডু এখনও পাওয়া যাচ্ছে না। সসম্মানে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য পরিবারের হাতে ওই মুন্ডু তুলে না দেওয়া পর্যন্ত ময়নাতদন্ত করা হবে না। বিবৃতিতে ক্ষোভপ্রকাশ করে বলা হয়, “জঙ্গিরা ওঁর কাটা মুন্ডুটিকে ট্রফি হিসেবে ব্যবহার করছে, এই অবস্থায় আমরা রাজ্য প্রশাসনকে দেহটি আরও ছিন্নভিন্ন করার অনুমতি দেব না।” নতুন করে শুরু হওয়া এই হিংসার জন্য সরাসরি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে দায়ী করে সংগঠনটি একে ‘মানবতার চূড়ান্ত অপমান’ বলে আখ্যা দিয়েছে। মাথাটি খুঁজে বের করে ফেরত দেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টার চরমসীমা বেঁধে দিয়ে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এর মধ্যে মুন্ডু ফেরত না পেলে ন্যায়বিচারের স্বার্থে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।
শুক্রবার ও শনিবার মণিপুরের কামজং, উখরুল এবং কাংপোকপী জেলায় পৃথক গুলি চালানোর ঘটনায় অন্তত নয় জনের মৃত্যু হয়েছে, যার ফলে রাজ্যে নতুন করে হিংসার ঢেউ আছড়ে পড়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার রাতে কামজং জেলার কুকি-অধ্যুষিত চাসাদ গ্রামে পাঁচ সন্তানের ২২ বছর বয়সি এক মাকে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা গুলি করে হত্যা করার পর এই সাম্প্রতিক হিংসার সূত্রপাত। ওই হত্যাকাণ্ডের পরই কুকি এবং নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির মধ্যে ব্যাপক গুলি বিনিময় শুরু হয়, যা শনিবার সকাল পর্যন্ত চলে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনান খেমচাঁদ সিংহ এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে, শান্তিশৃঙ্খলা ফেরাতে এবং সমস্ত নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ওই রাজ্যে কুকি এবং নাগা উপজাতিদের মধ্যে চলা গোষ্ঠীসংঘর্ষে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এখনও পর্যন্ত ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।
