থাইল্যান্ডের সামুত প্রাকানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক উৎসবে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পী নাইমুজ ইনাম নাইম। ১৫ অক্টোবর তাঁর জন্মদিন।
সম্প্রতি থাইল্যান্ডের সামুত প্রাকানে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল সামুত প্রাকান ট্যুরিজম অ্যান্ড ফোকলোর ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এ বাংলাদেশের ‘দিব্য কালচারাল অর্গানাইজেশন’-এর দলের সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করেন নাইমুজ ইনাম নাইম। গত ৯ থেকে ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই উৎসবে ছয়টি দেশের শিল্পীদের সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়।
দলের নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন বাংলাদেশের নৃত্যশিল্পী, নৃত্য পরিচালক ও নৃত্যগুরু দীপা খন্দকার। টিম ম্যানেজার ছিলেন নাহিদা সুলতানা।
দিব্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র নৃত্যশিল্পী ফারা শাওয়ার ঝুনঝুন, আফরোজা সুলতানা পান্না ও তাহমিনা খাতুন এবং চট্টগ্রামের নৃত্যশিল্পী ও নৃত্য পরিচালক স্বপন বড়ুয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশের নৃত্যশিল্পী জুবায়ের হোসেন নাঈম পুরো অনুষ্ঠান সমন্বয় করেন।
নাইমুজ ইনাম নাইম ১৫ অক্টোবর নড়াইল জেলার আলাদাতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পরিবারের একমাত্র সন্তান হিসেবে ছোটবেলা থেকেই গান ও নাচের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল। পরিবারের উৎসাহে শুরু হওয়া এই চর্চাই পরে তাঁর পেশাগত পরিচয়ে পরিণত হয়।
নৃত্যশিক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তিনি ভারতে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ও এক বছর মেয়াদি স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। নৃত্যগুরু গোপাল চন্দ্র কুণ্ডুর কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা ও নির্দেশনা তাঁর শিল্পীজীবনের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মা ইসমত আরাও নৃত্যশিল্পী হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য তাঁকে সব সময় অনুপ্রেরণা, শক্তি ও সাহস জুগিয়েছেন।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগে নৃত্যশিল্পী (গ্রেড-৩) হিসেবে কর্মরত।
তাঁর অর্জনের তালিকায় রয়েছে জাতীয় পর্যায়ের নৃত্য প্রতিযোগিতায় পুরস্কার। এ ছাড়া ২০১৭ সালে ‘ইন্টারন্যাশনাল কান্ট্রি কনসেপ্ট নোট অ্যাওয়ার্ড’-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে সেরা পরিবেশনশিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার তথ্যও রয়েছে।
নাইমের কাছে নৃত্য শুধু শারীরিক অভিব্যক্তি নয়; এটি আবেগ, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মানুষের পরিচয় প্রকাশের ভাষা। তাঁর বিশ্বাস, নৃত্য ও সংস্কৃতির চর্চা তরুণ প্রজন্মকে সৃজনশীল, সংবেদনশীল এবং নিজস্ব শেকড়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তুলতে পারে। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরাও তাঁর অন্যতম স্বপ্ন।
জন্মদিনে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন এই নৃত্যশিল্পী।
বিআলো/শিলি