জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সাম্য, মানবতা ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার আদর্শ নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মিলনায়তনে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
আবর্তনের নিবেদন: চিরদিনের নজরুল শীর্ষক এ আয়োজনে কবির সাহিত্য, সংগীত, জীবনদর্শন ও বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম কেবল বিদ্রোহের কবি নন, তিনি সাম্য, সম্প্রীতি, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারেরও কবি। তাঁর সাহিত্য ও সংগীত বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সমৃদ্ধ করেছে। তাঁর জীবনদর্শন ও সৃষ্টিকর্ম যথাযথভাবে চর্চার মাধ্যমে সমাজে মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
তিনি বলেন, নজরুলের কবিতা, গান ও অন্যান্য সাহিত্যকর্মে মানুষের মুক্তি, অধিকার ও মর্যাদার কথা উঠে এসেছে। অন্যায়, অবিচার, বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান আজও প্রাসঙ্গিক। সমাজে বিভেদ ও অসহিষ্ণুতা দেখা দিলে তাঁর সাহিত্য মানুষকে ঐক্য ও সম্প্রীতির পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেয়।
নতুন প্রজন্মকে নজরুলের রচনা পড়তে, গান শুনতে এবং তাঁর জীবনসংগ্রাম সম্পর্কে জানতে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে নজরুলচর্চা বিস্তারে আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, একটি জাতির আত্মপরিচয় নির্মাণে সাহিত্য ও সংস্কৃতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাঙালির ভাষা, সাহিত্য ও সংগীতের ঐতিহ্য ধারণ করে জাতীয় সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নজরুলের সৃষ্টিকর্ম গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণার উৎস।
ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণির বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়ার যে শিক্ষা নজরুল দিয়েছেন, তা সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। নজরুলের দর্শনকে কেবল আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দৈনন্দিন জীবনেও ধারণ করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় কবির সাহিত্যকর্মের যথাযথ সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রচার নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর অপ্রচলিত গান, কবিতা ও অন্যান্য রচনা সংগ্রহ করে নতুন প্রজন্মের কাছে সহজলভ্য করার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নজরুলের রচনায় প্রতিবাদ, মুক্তির আকাঙ্ক্ষা, প্রেম, প্রকৃতি, আধ্যাত্মিকতা ও মানবিক অনুভূতির বহুমাত্রিক প্রকাশ ঘটেছে। বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের বিকাশে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নজরুলসংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও অন্যান্য পরিবেশনার মাধ্যমে জাতীয় কবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ আয়োজন নতুন প্রজন্মের মধ্যে নজরুলের সাহিত্য ও সংগীতের ঐতিহ্য ছড়িয়ে দিতে এবং তাঁর আদর্শকে সমকালীন সমাজে প্রাসঙ্গিক করে তুলতে ভূমিকা রাখবে।
