চট্টগ্রামে চাঁদাবাজির মামলায় জামিন না পাওয়ায় বহিষ্কৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ওয়াকিল হোসেন বগাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত; অস্ত্র মামলায় জামিন পেলেও তার বিরুদ্ধে প্লট দখল, চাঁদাবাজি ও অপহরণের অভিযোগে করা মামলায় জামিন মেলেনি।
চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানায় দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং নেতা হিসেবে পরিচিত নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াকিল হোসেন বগাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। অস্ত্র মামলায় জামিন পেলেও চাঁদাবাজির মামলায় জামিন না পাওয়ায় তাকে কারাগারে যেতে হয়েছে।
গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী এস এম মনিরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, খুলশী থানায় দায়ের করা চাঁদাবাজি ও অস্ত্র মামলায় ওয়াকিল হোসেন বগা জামিনের আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত অস্ত্র মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। তবে চাঁদাবাজির মামলায় জামিন না দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তার বিরুদ্ধে আর কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেই বলেও জানান এই আইনজীবী।
বগাকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নগর ভবনে অবস্থানের ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। গত ৬ অক্টোবর নগরের টাইগারপাস এলাকায় অবস্থিত নগর ভবনে ওয়াকিলের অবস্থানের খবর পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে যায় পুলিশ। তবে সেখানে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।
পরদিন এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি জানান, ওয়াকিল নগর ভবনে ছিলেন না; তার দুই ভাই মেয়রের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন।
এ সময় ওয়াকিলকে সন্ত্রাসী নয়, বরং ‘জুলাই যোদ্ধা’ বলে দাবি করেন মেয়র। পাশাপাশি খুলশী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন তিনি।
এর পরদিনই আবদুর রহিমকে খুলশী থানা থেকে সরিয়ে নগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) নয়, বরং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড স্পেশাল ব্রাঞ্চ (সিটিএসবি)-তে বদলি করা হয়। পরদিন তাকে চট্টগ্রাম থেকে খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়।
এদিকে গত ৬ অক্টোবর ওয়াকিল হোসেন বগাসহ ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে খুলশী থানায় একটি মামলা করেন চট্টগ্রাম খবরের সম্পাদক ও প্রকাশক শেখ মুহাম্মদ আরিফ। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় প্লট দখল, চাঁদাবাজি ও অপহরণের অভিযোগ আনা হয়। এজাহারে পাঁচটি ঘটনার বিবরণ দিয়ে বাদী অভিযোগ করেন, গত ১১ ফেব্রুয়ারি ও ২৫ এপ্রিল তাকে অপহরণ করে ওয়াকিলের আস্তানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়।
বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ঘটনায় তাকে অপহরণ করে আটকে রেখে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের করা মামলায় ওয়াকিল হোসেন বগার নাম রয়েছে।
চাঁদাবাজির মামলায় জামিন না পাওয়ায় আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে ওয়াকিল হোসেন বগাকে। তবে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
