কানাডায় আবারও বেড়েছে মূল্যস্ফীতি। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে দেশটির বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশে। একই সময়ে পেট্রোলের দাম বেড়েছে প্রায় ২৮ শতাংশ। জ্বালানি, বাড়িভাড়া, খাদ্যপণ্য ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো। ফলে মাসিক আয় দিয়ে সংসারের খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
কানাডার জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার প্রকাশিত ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে দেশটির সামগ্রিক ভোক্তা মূল্যসূচক বেড়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। আগস্টে এই হার ছিল ৩ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতির হার আরও বেড়েছে।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কানাডায় মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া। গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে দেশটিতে জ্বালানির দাম বেড়েছে ১৯ শতাংশ। আগস্টে এই বৃদ্ধির হার ছিল ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ।
একই সময়ে পেট্রোলের দাম বেড়েছে ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ। আগস্টে এই হার ছিল ২২ দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যদিকে, জ্বালানি তেল ও অন্যান্য জ্বালানির দাম বার্ষিক হিসাবে বেড়েছে ৫৭ দশমিক ৮ শতাংশ। আগের মাসে এই বৃদ্ধির হার ছিল ৪৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
জ্বালানির দাম বাড়ায় ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি পরিবহন খাত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়ছে। পণ্য পরিবহন, সরবরাহ ও উৎপাদনের খরচ বেড়ে গেলে তার প্রভাব খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে।
বাড়িভাড়া ও খাবারের খরচে চাপে পরিবার
কানাডায় বাড়িভাড়া, খাবার, যাতায়াত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে আগে থেকেই হিমশিম খাচ্ছেন অনেক পরিবার। এর মধ্যে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নতুন করে ব্যয়ের চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
যাঁদের কর্মস্থলে যাতায়াতের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভর করতে হয়, তাঁদের মাসিক ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে। ফলে আয় অপরিবর্তিত থাকলেও আগের মতো জীবনযাপন বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। পরিবারের প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে অনেককে অন্যান্য ব্যয় কমানোর বিষয়টিও বিবেচনা করতে হচ্ছে।
মূল্যস্ফীতির কারণে একই পরিমাণ অর্থ দিয়ে আগের তুলনায় কম পণ্য ও সেবা কেনা যাচ্ছে। তবে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ১ শতাংশ হওয়ার অর্থ এই নয় যে সব পণ্য ও সেবার দাম একই হারে বেড়েছে। পণ্য ও সেবাভেদে মূল্যবৃদ্ধির হার আলাদা হতে পারে।
বিশ্ববাজারের অস্থিরতার প্রভাব
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর প্রভাব কানাডার অভ্যন্তরীণ বাজারেও পড়ছে। বিশেষ করে আটলান্টিক কানাডার বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জ্বালানির দাম বাড়লে শুধু গাড়ি চালানোর খরচ বাড়ে না; পণ্য উৎপাদন, পরিবহন ও সরবরাহের ব্যয়ও বেড়ে যায়। এসব খরচ শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর বর্তাতে পারে। ফলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হলে অর্থনীতির অন্যান্য খাতেও মূল্যস্ফীতির চাপ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আগামী মাসগুলোতে কী হতে পারে
বিশ্লেষকদের মতে, কানাডায় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয়ের মাধ্যমে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে এর প্রভাব পড়তে পারে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
এ পরিস্থিতিতে জ্বালানির বাজার, খাদ্যপণ্যের মূল্য এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির গতিপ্রকৃতি কানাডার অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর ওপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমানো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ব্যয় সামলানোর উদ্বেগও বাড়ছে। আগামী মাসগুলোতে জ্বালানির দাম কোন দিকে যায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে এর প্রভাব কতটা পড়ে, তার ওপর কানাডার পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয়ের পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে।
The post কানাডায় মূল্যস্ফীতি ৩.১ শতাংশ, সংসার চালাতে হিমশিম সাধারণ মানুষ appeared first on SATV.
