আজকাল ওয়েবডেস্ক: চোরবাগানের মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনায় মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহি গ্রামের বাসিন্দা সন্দীপ বেজ ও টগর বেজের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, শুধু বেজ পরিবার নয়, দুর্ঘটনায় মৃত প্রত্যেকের পরিবারের পাশে থাকবে রাজ্য সরকার। এই শোকের আবহে সরকারি আনন্দ-অনুষ্ঠান থেকেও কয়েক দিন বিরত থাকার সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। তবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান যথারীতি পালন করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, 'জীবনগুলো তো ফিরিয়ে দিতে পারব না। কিন্তু পরের দায়িত্বটা নিতে হবে। সেটা কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।' শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, চোরবাগানের দুর্ঘটনার তদন্তেও বড় পদক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকার। তিনি বলেন,'মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের অনুমতি চেয়েছেন। একজন বর্তমান বা প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন জানানো হয়েছে।'
এমনকী এই তদন্ত কমিটিতে কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভার কোনও প্রতিনিধি রাখা হবে না বলেও এ দিন ফের আরেকবার মুখ্যমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দেন। তিনি জানান , কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভা— দু তরফেই পুজোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ফলে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পাশাপাশি তদন্তের প্রসঙ্গে পূর্বতন সরকারের সমালোচনাও করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, আগের সরকারের আমলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে বিচারবিভাগীয় তদন্ত বা সিবিআই তদন্তের দাবিতে দৌড়ঝাঁপ করতে হত। বর্তমান সরকার নিজেই তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে বলে দাবি তাঁর।
এদিন ২০২৫ সালের কয়েকটি দুর্ঘটনার প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ওই বছর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। লক্ষ্মীপুজোর সময় হড়পা বানে বহু মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তার পরেও পুজোর কার্নিভাল হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন।
চোরবাগানের দুর্ঘটনার পিছনে পুজো কমিটিগুলির ভিআইপি সংস্কৃতির কোনও ভূমিকা ছিল কি না, সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চান না তিনি।তাঁর বক্তব্য, 'আগের মুখ্যমন্ত্রী তদন্ত হওয়ার আগেই মন্তব্য করতেন। তিনি যে ভাষায় কথা বলতেন, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সেই ভাষায় কথা বলেন না। আগে তদন্ত হোক। তার পর মন্তব্য করব।'
তদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই আগামী বছর পুজোর সময় এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কী কী পদক্ষেপ করা প্রয়োজন, তা সরকার বিবেচনা করবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ফলে চোরবাগানের ঘটনার তদন্তের ফলের উপরই আগামী দিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্ধারণের বিষয়টি নির্ভর করছে।
