যোগাসন শরীরের নমনীয়তা, ভারসাম্য ও পেশির শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি মনকে শান্ত রাখতেও সাহায্য করে। তবে প্রতিটি আসন সঠিক নিয়মে এবং নিজের শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী অনুশীলন করা জরুরি।
নিয়মিত ও সঠিকভাবে অনুশীলন করলে শরীরকে সক্রিয়, দৃঢ় ও সচল রাখতে সহায়তা করতে পারে।
দাঁড়িয়ে করার যোগাসনগুলোর মধ্যে কার্যকর একটি আসন হল ‘ত্রিকোণাসন’।
এই আসনে শরীরের ভঙ্গি অনেকটা ত্রিভুজের মতো হয়, যা মূলত শরীরের পাশের অংশ, কোমর, পা ও কাঁধের বিভিন্ন পেশিতে একসঙ্গে গভীর কাজ করে।
ত্রিকোণাসন করার সঠিক পদ্ধতি
যোগাসনের প্রকৃত সুফল পেতে এবং কোনও ধরনের আঘাত এড়াতে প্রতিটি কদম নিখুঁতভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন।
আসনটি করার সুনির্দিষ্ট নিয়মগুলো হল-
প্রথমে একটি সমতল স্থানে দুই পা পাশাপাশি রেখে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে।
এরপর দুই পা কিছুটা দূরে (শরীরের উচ্চতা অনুযায়ী প্রয়োজনমতো দূরত্ব) ছড়িয়ে নিন এবং দুই হাত কাঁধ বরাবর দুই পাশে সোজা করে প্রসারিত করতে হবে।
এবার ডান পায়ের পাতা সামনের দিকে রেখে শরীরকে ধীরে ধীরে ডান দিকে ঝুঁকিয়ে দিতে হবে এবং ডান হাতটি ডান পায়ের গোড়ালি বা স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী পায়ের পাশে রাখতে হবে।
একই সঙ্গে বাঁ হাতটি ধীরে ধীরে ওপরের দিকে সোজা করে তুলতে হবে। আর বুক ও কাঁধ সবসময় প্রসারিত রাখতে হবে।
এই ভঙ্গিতে থাকার সময় কোনও অবস্থাতেই শ্বাস বন্ধ করা যাবে না। আরামদায়কভাবে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে নিতে কিছুক্ষণ স্থির থাকতে হবে এই অবস্থায়।
এরপর ধীরে ধীরে আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসে বিপরীত দিকেও (অর্থাৎ বাঁ দিকে ঝুঁকিয়ে) একইভাবে অনুশীলনটি সম্পন্ন করতে হবে।
মনে রাখতে হবে: অনেকেই জোর করে মাটিতে হাত ছোঁয়ানোর চেষ্টা করেন, যা ঠিক নয়। মাটিতে হাত রাখতেই হবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। শরীর যতটুকু স্বাচ্ছন্দ্যে বা সহজে যায়, ততটুকুই ঝুঁকতে হবে।
প্রয়োজনে হাতের নিচে সাপোর্ট বা সহায়তার জন্য ‘যোগা ব্লক’ ব্যবহার করা যেতে পারে।
নিয়মিত অনুশীলনের উপকারিতা
ত্রিকোণাসন একাধিক পেশিকে একসঙ্গে সক্রিয় রাখে। এর প্রধান উপকারিতাগুলো হল
পেশির নমনীয়তা বৃদ্ধি: এটি কোমর, পা এবং শরীরের পাশের পেশির নমনীয়তা প্রাকৃতিকভাবে উন্নত করতে সাহায্য করে।
পায়ের পেশি সক্রিয়করণ: পায়ের পেশি ও শরীরের বিভিন্ন অংশকে সচল ও সক্রিয় রাখতে এই আসনের ভঙ্গি সরাসরি সহায়তা করে।
স্থিতিশীলতা ও ভারসাম্য উন্নত করা: শরীরের সামগ্রিক ভারসাম্য এবং স্থিতিশীলতা উন্নত করতে এটি কার্যকর, যা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের স্থিরতা বজায় রাখে।
বুক ও কাঁধের প্রসারণ: হাত ওপরের দিকে প্রসারিত রাখার কারণে বুক ও কাঁধের পেশি খোলে, যা ফুসফুসের অক্সিজেন গ্রহণ ক্ষমতা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
মেরুদণ্ডের সচলতা: এটি মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক নড়াচড়া ও রক্ত সঞ্চালন সচল রাখতে সহায়তা করে, যা শরীরকে দীর্ঘমেয়াদে সতেজ রাখে।
যাদের সতর্ক থাকতে হবে
ত্রিকোণাসন উপকারী হলেও সবার শারীরিক অবস্থা এক নয়। তাই নিচের চিকিৎসাগত সতর্কতাগুলো মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
তীব্র ব্যথা ও সার্জারি: তীব্র কোমর বা ঘাড়ের ব্যথা, সাম্প্রতিক কোনও অস্ত্রোপচার বা গুরুতর পেশি-জোড়ে সমস্যা থাকলে প্রশিক্ষকের পরামর্শ ছাড়া এই আসন করা সম্পূর্ণ অনুচিত।
ভারসাম্যের সমস্যা: মাথা ঘোরা (ভার্টিগো) বা রক্তচাপের তারতম্যের কারণে ভারসাম্যের গুরুতর সমস্যা থাকলে এই দাঁড়িয়ে করা আসনটি একা একা অনুশীলন করা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
উচ্চ রক্তচাপ ও চোখের সমস্যা: যাদের উচ্চ রক্তচাপ বা চোখের জটিল সমস্যা রয়েছে, তাদের বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ ও নির্দেশনা নিয়ে তবেই এটি অনুশীলন করতে হবে।
লেখক: শিবানী দে, যোগ শিক্ষক।
