গত ১৮ অক্টোবর মুম্বইয়ের জুহুর পুষ্পা পার্কে টাইগার শ্রফের উপর প্রকাশ্যে গুলি চালানো হয়। যদিও তাঁর আঘাত লাগেনি, কিন্তু তাঁর গাড়ির চালক এবং অন্য এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এরপর একাধিক ভিডিওতে অভিনেতাকে ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় দেখা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই ধরপাকড়, জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে এই কেসের। রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ এবং হরিয়ানা থেকে এখনও পর্যন্ত ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। আর তার মধ্যেই এদিন একটি খবর প্রকাশ্যে এসেছে যেখানে দাবি করা হয়, টাইগার শ্রফ নাকি নিজেই জানিয়েছেন তিনি ঘটনাটার পর নাকি ব্যাপক শকের মধ্যে রয়েছেন। এই বিষয়ে এবার নতুন বিবৃতি দিল তাঁর টিম।
কী ঘটেছে? সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তরফে দাবি করা হয়, টাইগার নাকি অবশেষে এই ঘটনার পর মুখ খুলেছেন, মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চকে জানিয়েছেন তিনি গভীর শকের মধ্যে রয়েছেন। তাঁর কথায়, 'আমি দারুণ শকে রয়েছি, আমি এখনই কিছু বলতে চাই না। আমার কোনও শত্রু নেই, কেউ কেন আমার উপর আক্রমণ করবে?' এরপরই তাঁর টিমের তরফে জানানো হয় অভিনেতা নাকি এরকম কিছুই বলেননি। তাঁদের তরফে বলা হয়, 'এই খবর সম্পূর্ণ ভুয়ো। অভিনেতা মোটেই এমন কোনও স্টেটমেন্ট দেননি পুলিশকে। এরকম কিছুই ঘটেনি।'
শুধু তাই নয়, অভিনেতার টিমের তরফে এদিন এও বলা হয়, অভিনেতার উপর হামলা হওয়ার পর তাঁর একাধিক এআই দ্বারা নির্মিত ছবি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তাঁকে ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় দেখা গিয়েছে। কিন্তু সেগুলো সঠিক নয়। অকারণ এই ছবিগুলো অভিনেতার অনুরাগীদের চিন্তা বাড়িয়েছে, বলেই দাবি তাঁদের।
টাইগার শ্রফের টিমের তরফে তাঁর অফিসিয়াল পেজ থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয় সেখানে তাঁরা তাঁর শরীরে থাকা দাগগুলোর কারণ জানান। একই সঙ্গে বলেন, 'আমরা সকলকে জানাতে চাই, এই শুটিংয়ের ঘটনার পর টাইগার শ্রফের তরফে কোনও স্টেটমেন্ট দেওয়া হয়নি। কোনও ভিডিও দেওয়া হয়নি। এমনকী এই ঘটনার বিষয়ে কোনও যোগাযোগও করা হয়নি কারও সঙ্গে। আমাদের নজরে এসেছে সমাজমাধ্যমে একাধিক ভুয়ো খবর এআই দ্বারা নির্মিত ছবি, ভিডিও ছড়ানো হয়েছে টাইগারের বিষয়ে। এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যে, জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।' টাইগারের বিষয়ে এভাবে মিথ্যে খবর রটালে তাঁরা আইনি পদক্ষেপ করবেন বলেই হুঁশিয়ারিও দেন এদিন।
https://www.facebook.com/share/p/1MjvemSVYB/
প্রসঙ্গত, টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া কাণ্ডে আরও ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেলের তরফে মঙ্গলবার ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, এঁদের মধ্যে আবার ২ জন মহিলাও আছেন। জানা গিয়েছে, এই গোটা ঘটনায় ২ মহিলার দারুণ হাত আছে। তাঁরাই নাকি অস্ত্র আনিয়েছেন, আততায়ীদের হাতে সেগুলো তুলে দিয়েছেন। দিল্লি পুলিশের তরফে এদিন যে আরও ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁরা হলেন কুণাল, সুমিত, রাধা এবং ববিতা। গ্রেপ্তারের পরই জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্ত প্রক্রিয়ার জন্য তাঁদের মুম্বই পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কী জানা গিয়েছে প্রাথমিক ভাবে? কুণাল এবং সুমিত অস্ত্রের আয়োজন করেছেন। অন্যদিকে রাধা এবং ববিতা গিয়ে মুম্বইয়ে এই অস্ত্রগুলো আততায়ীদের হাতে তুলে এসেছেন। এর আগে এই কাণ্ডে রাজস্থানের কোটা থেকে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাঁদের কোটা থেকে মুম্বই ফিরিয়ে আনা হয়। এই ১৮ ঘণ্টার সফরে গাড়ির মধ্যেই তাঁদের ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শুধু তাই নয়, তিনজনকে তিনটি আলাদা গাড়িতে করে নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু কেন এভাবে আনা হয়েছে ৩ মূল অভিযুক্তকে? তাঁরা যাতে চোখে ধুলো দিয়ে না পালাতে পারেন বা অন্য কোনও সমস্যা না হয়, তাই তিনটি আলাদা গাড়িতে লক করে তাঁদের মুম্বই নিয়ে আসা হয়। আর এই সময় চলা জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের আলাদা আলাদা করে প্রশ্ন করা হয় এটা জানার জন্য যে তাঁদের কথায় কোনও অসঙ্গতি আছে কিনা।
