পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক। যতই দল চাপে থাকুক। তাঁর ব্যাটে ঝড় উঠবেই। রবিবার যেমন উঠল ইন্দোরে। অভিষেক শর্মার ঝোড়ো ইনিংসে ভর করে ২২৩ রান তুলেছিল টিম ইন্ডিয়া। বাকি কাজটা করলেন বোলাররা। তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে শেষ পর্যন্ত ১৪ রানে হারল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাল ভারত। এতে বেজায় খুশি শ্রেয়স আইয়ারের। তবে দলকে সতর্কও করে দিয়েছেন টিম ইন্ডিয়ার টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক।
গত ম্যাচে যেভাবে ২৪৯ রান তাড়া করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছিল, তাতে কিছুটা সংশয় তৈরি হয়। যদিও যাবতীয় সংশয় উড়িয়ে দিলেন ভারতীয় বোলাররা। ক্যারিবিয়ান ইনিংস থামে ২০৯-৭ স্কোরে। এই জয়ের সঙ্গে সঙ্গে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ভারত এগিয়ে গেল ২-১ ব্যবধানে। রবিবার ম্যাচ শেষে বোলারদের প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন শ্রেয়স। তিনি বলেন, “বোলারদের আত্মবিশ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। কে কী করতে চায়, তা নিয়ে প্রত্যেকেরই ওয়াকিবহাল ছিল। ওরা চ্যালেঞ্জ নিতে তৈরি ছিল। নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করেছে। অধিনায়ক হিসাবে এটাই তো দেখতে চাই।”
৩০ বলে ৬৯ রানের ইনিংস খেলেন ‘শর্মাজি কা বেটা’। ১৮ বলে হাফসেঞ্চুরি করে বুঝিয়ে দেন, কেন তাঁকে নিয়ে এত আলোচনা। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন ঈশান কিষান। ১৮ বলে ৩৭ রান করেন তিনি। শেষ দিকে প্রিন্স যাদবের ‘ক্যামিও’ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শেষ ওভারে শামার জোসেফকে তিনটি বাউন্ডারি হাঁকান। প্রিন্স অপরাজিত থাকেন ৬ বলে ১৩ রানে। শ্রেয়সের কথায়, “শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। পাওয়ার প্লে-তে অভিষেক নিজের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলেছে। ঈশানও ভালো ব্যাট করেছে। গত কয়েক মাস ধরে ও দারুণ খেলছে। শেষ দিকে প্রিন্স যাদবের ছোট্ট ইনিংসটাও গুরুত্বপূর্ণ।” তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হালকা ভাবে নিতে নারাজ ভারত অধিনায়ক। তাঁর কথায়, “আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই। এই মাঠগুলোতে প্রচুর রান হয়। নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে হবে। এই সময় উচিত রুটিন মেনে চলা। আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়েই খেলতে হবে।”
অন্যদিকে, হারের পরে নিজেদের বোলিংয়ের ব্যর্থতাকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক শাই হোপ। তিনি বলেন, “ক্রিকেটে ছোট ছোট ব্যবধানই অনেক সময় ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। আমরা বল হাতে আরও ভালো হতে পারতাম। কয়েকটি বাউন্ডারি আটকানোও জরুরি ছিল। তবে অভিষেক-ঈশানের জুটিটা ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক। রস্টন চেজ উইকেট পাওয়ার পরে আমরা ম্যাচে ফিরে আসার চেষ্টা করেছি। সেই লড়াই প্রশংসনীয়।” পাশাপাশি দলের ওপেনিং জুটি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। হোপের কথায়, “ইনিংসের ভিত গড়তে আমাদের ভালো ওপেনিং জুটির প্রয়োজন। তবে এক-দু’জন ক্রিকেটারকে দায়ী করে লাভ নেই।” ইন্দোরের শিশিরও ম্যাচে প্রভাব ফেলেছে বলে মেনে নিয়েছেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক। সিরিজে এগিয়ে গেলেও ভারতের সামনে এখনও বাকি দু’টি ম্যাচ। আত্মতুষ্টিতে না ভুগে ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন চ্যালেঞ্জ শ্রেয়সদের সামনে।
