“নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় শিক্ষার্থীদের সড়কে চলাচলের নিয়ম, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতন হওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন অতিথিরা। পাশাপাশি প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক চলাচল ও সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কুষ্টিয়া সার্কেলের আয়োজনে কুমারখালী সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাকক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কুমারখালী সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার মদকের সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) কুষ্টিয়া জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট শামীম উল হাসান অপু, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়া ইমন রুবেল, শিক্ষক রোকনুজ্জামান এবং কুমারখালী প্রেসক্লাবের সহসভাপতি মনোয়ার হোসেনসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাও অত্যন্ত জরুরি। সড়কে চলাচলের সময় অসতর্কতা, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং নিয়ম না মেনে রাস্তা পারাপারের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনা এড়াতে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিক। ছোটবেলা থেকেই তাদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। রাস্তা পারাপারের সময় নির্ধারিত স্থান ব্যবহার, ফুটপাত দিয়ে চলাচল, চলন্ত যানবাহনে ওঠানামা থেকে বিরত থাকা এবং যানবাহনে যাতায়াতের সময় নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে চালক, যাত্রী ও পথচারী—সবার মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলার মানসিকতা তৈরি হলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
সভায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সড়ক দুর্ঘটনার কারণ, দুর্ঘটনা এড়ানোর উপায় এবং নিরাপদে চলাচলের বিভিন্ন নিয়ম সম্পর্কে সচেতন করা হয়। প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি অতিথিদের বক্তব্যের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন এবং অন্যদেরও সচেতন করার আহ্বান জানানো হয়।
আয়োজকেরা জানান, নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সঠিক ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি। এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তুলতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সহায়ক হবে।
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালক, যাত্রী, পথচারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শেষ হয়।ব।
