উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির মালিকানা হালনাগাদ করার প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম মেনে চলতে হয়। এখন থেকে পৈতৃক জমির ক্ষেত্রে এককভাবে নয়, সব ওয়ারিশের নাম একযোগে অন্তর্ভুক্ত করেই যৌথ নামজারি সম্পন্ন করতে হবে।
ফলে ভবিষ্যতে মালিকানা সংক্রান্ত যেকোনো জটিলতা এড়াতে সঠিক তথ্য এবং প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র হাতের কাছে গুছিয়ে রাখা জরুরি।
চলুন দেখে নেওয়া যাক, নামজারির আবেদনে ঠিক কী কী কাগজপত্র লাগবে—
জমি কীভাবে অর্জিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ডের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিপত্র ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত যেসব কাগজপত্র লাগতে পারে—
১. নিবন্ধিত দলিলের কপি: জমি কেনার মাধ্যমে মালিকানা অর্জন করলে।
২. আগের খতিয়ানের কপি: সংশ্লিষ্ট জমির বিদ্যমান খতিয়ান।
৩. জমির বিবরণ: দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য।
৪. জাতীয় পরিচয়পত্র: আবেদনকারীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য।
৫. ওয়ারিশ সনদ: উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে।
৬. মৃত্যুসনদ: প্রযোজ্য ক্ষেত্রে।
৭. নিবন্ধিত বণ্টননামা: ওয়ারিশদের মধ্যে জমি ভাগ করে পৃথক খতিয়ান করতে চাইলে।
৮. অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি: সরকারি ফি পরিশোধের তথ্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাওয়া কাগজপত্র।
আবেদনের আগে দলিল, খতিয়ান, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও মালিকানার তথ্য মিলিয়ে নেওয়া উচিত। নথিপত্রে অসংগতি থাকলে আবেদন নিষ্পত্তিতে দেরি হতে পারে।
অনলাইনে নামজারির আবেদন করবেন যেভাবে
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইট land.gov.bd থেকে ই-নামজারি সেবায় প্রবেশ করে আবেদন করা যায়। আবেদন করতে সাধারণত নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হয়।
প্রথম ধাপ: সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ই-নামজারি সেবার লিংক নির্বাচন করুন।
দ্বিতীয় ধাপ: আবেদনকারীর পরিচয়, জমির অবস্থান, খতিয়ান ও দাগ নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করুন।
তৃতীয় ধাপ: জমি কেনার মাধ্যমে নাকি উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানা অর্জিত হয়েছে, তা উল্লেখ করুন। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে সব ওয়ারিশের তথ্য সঠিকভাবে দিন।
চতুর্থ ধাপ: নিবন্ধিত দলিল, খতিয়ান, ওয়ারিশ সনদ এবং প্রযোজ্য অন্যান্য কাগজপত্র নির্দেশনা অনুযায়ী সংযুক্ত করুন।
পঞ্চম ধাপ: আবেদন জমা দিয়ে নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধ করুন। আবেদন নম্বর বা ট্র্যাকিং তথ্য সংরক্ষণ করুন।
ষষ্ঠ ধাপ: অনলাইনে আবেদনের অগ্রগতি অনুসরণ করুন। সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস অতিরিক্ত তথ্য বা কাগজপত্র চাইলে নির্ধারিত নিয়মে তা জমা দিন।
আবেদনের আগে সরকারি পোর্টালে দেওয়া সর্বশেষ নির্দেশনা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি যাচাই করে নেওয়া ভালো। নথিপত্রের যথার্থতা, জমির ধরন এবং কোনো আপত্তি রয়েছে কি না, তার ওপর আবেদন নিষ্পত্তির সময় নির্ভর করতে পারে।