যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত করে ১৭২ জনকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার ওপর বারবার কুড়াল দিয়ে হামলা চালিয়েছিলেন সহকারী পাইলট। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। তবে উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টা ঠেকাতে ইসরায়েলি এক প্লাম্বারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
আবুধাবির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন মাচ্ছার। হামলার সময় তার ওমানি সহকারী পাইলট হামাদ আল হাম্মামির আচরণ এবং উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি।
মাচ্ছার জানান, হামলার আগে প্রায় দুই ঘণ্টা তার পাশেই বসেছিলেন সহকারী পাইলট। তখন তার আচরণে সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়েনি। তবে আমিরাতের কৌঁসুলিরা ঘটনাটিকে পূর্বপরিকল্পিত সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছেন।
মাচ্ছার বলেন, ‘প্রথমবার যখন আমাকে আঘাত করা হয়, তখন আমার মনে হয়েছিল উড়োজাহাজের কাঠামোয় ভয়াবহ কিছু ঘটেছে, আর সেটি আমার মাথায় এসে পড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আঘাতের ধাক্কায় আমি প্রায় নিয়ন্ত্রণ দণ্ডের ওপর পড়ে যাচ্ছিলাম। পরের কয়েক সেকেন্ডেও যখন আঘাত আসতে থাকল, তখন বুঝতে পারলাম, যাকে দলের একজন বলে মনে করেছিলাম, সেই অন্য ব্যক্তিই আমাকে আঘাত করছে।’
হামলার পর কীভাবে ঘটনাপ্রবাহ এগিয়েছিল, তা পুরোপুরি মনে করতে পারেননি মাচ্ছার। তবে কয়েকবার চেষ্টা করার পর তিনি সিটবেল্ট খুলে ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন।
তিনি বলেন, ‘আমি সহকর্মীদের চিৎকার করে ডাকছিলাম। আমার মনে হয়, তখনই প্রথমবারের মতো জ্ঞান হারাই। ককপিটের ভেতরে উপুড় হয়ে পড়ে যাই।’
পরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে তাকে ককপিট থেকে বের করে আনা হয় বলে জানান মাচ্ছার। এরপর যাত্রী ও উড়োজাহাজের কর্মীরা হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। ফ্লাইদুবাইয়ের দায়িত্বে না থাকা দুই পাইলট উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেন।
মাচ্ছার বলেন, ‘এরপর আমার মনে আছে, একজন যাত্রী আমাকে টেনে বাইরে নিয়ে আসেন। পরে জ্যেষ্ঠ কেবিন ক্রু সেখানে পৌঁছে আমাকে সহায়তা করেন। তার প্রচেষ্টার কারণেই আজ আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে পারছি।’
উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে ইসরায়েলি প্লাম্বার ইয়ানিভ হায়ুনের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে মাচ্ছার বলেন, ‘সত্যি বলতে, প্লাম্বারের গল্পটি সম্পর্কে আমি কিছু জানি না।’
পেশায় প্লাম্বার হায়ুনের দাবি, তিনি ককপিটে ঢুকে সহকারী পাইলটকে মারধর করে আটকে রাখেন এবং পরে উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নিতে সহায়তা করেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে তিনি বলেছিলেন, ‘এয়ার ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন’ অনুষ্ঠান দেখে উড়োজাহাজ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ধারণা পেয়েছিলেন।
এ বিষয়ে মাচ্ছার বলেন, ‘আমার সমস্ত শক্তি তখন হাল না ছাড়ার দিকে কেন্দ্রীভূত ছিল। আমার মনে আছে, ফ্লাইটের জ্যেষ্ঠ ক্রু সদস্যকে বলতে শুনেছিলাম, ক্যাপ্টেন নিয়ন্ত্রণে আছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন প্লাম্বার কি উড়োজাহাজ অবতরণ করাতে পারেন? এ নিয়ে আমি অনুমাননির্ভর আলোচনায় যেতে চাই না। তবে আপনার প্রশ্নের জবাবে বলছি, তখন আমার স্মৃতি ও সমস্ত শক্তি কেবল নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার দিকেই মনোযোগী ছিল।’
তার এ বক্তব্যে হায়ুনের বর্ণিত ভূমিকা নিয়ে সংশয়ের ইঙ্গিত রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। পাইলট নিজেই বলেছেন, ওই সময় কী ঘটেছিল, তা মনে করার মতো অবস্থায় তিনি ছিলেন না।
উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের তাবুক শহরে অবতরণের পর ওমানি সহকারী পাইলটকে আটক করা হয়। মাচ্ছারকেও প্রথমে সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে আবুধাবিতে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন।
সূত্র : এনডিটিভি
