ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে রঞ্জি ট্রফির ম্যাচে চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে বল হাতে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন মুম্বাইয়ের পেসার। মঙ্গলবার ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে নিজের দুর্দান্ত অভিজ্ঞতার পূর্ণ প্রয়োগ ঘটিয়ে এই কীর্তি গড়েন তিনি। এর আগে সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে মিজোরামের বিপক্ষে এবং স্কুল ক্রিকেটেও হ্যাটট্রিক করার অভিজ্ঞতা ছিল তার। চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে ডোয়াইন ব্রাভো, রাজস্থান রয়্যালসের শেন বন্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ এরিক সিমন্সের মূল্যবান পরামর্শই তাকে সঠিক লাইন ও লেংথ বজায় রেখে বোলিং করতে সাহায্য করেছে।
হ্যাটট্রিক বলটিতে ডিপেন্দার কুশকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন এই বোলার। স্লিপে দুর্দান্ত ক্যাচটি লুফে নেন ইয়াশস্বী জয়সোয়াল। এটি ছিল তার দিনের চতুর্থ উইকেট। এরপর চণ্ডীগড়ের প্রথম ইনিংসে আরও এক উইকেট শিকার করে পাঁচ উইকেটের কোটা পূর্ণ করেন তিনি। এমনকি প্রতিপক্ষের দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম ওভারেও আঘাত হানেন তিনি, যা তাকে এনে দেয় অসাধারণ সাফল্য।
মুম্বাইয়ের এই পেসার বল হাতে মাত্র ১৭ রান খরচ করে তুলে নেন ৬টি উইকেট। পাশাপাশি ব্যাট হাতে ৯ নম্বরে নেমে কার্যকরী ৪৪ রানের একটি ইনিংসও খেলেন। তার এই অলরাউন্ড পারফরম্যান্স এবং ৩৫১ রানের বিশাল লিডের সুবাদে মুম্বাই এখন বড় জয়ের সুবাস পাচ্ছে। সবুজ উইকেটে বোলারদের জন্য বাড়তি সুবিধা থাকায় ম্যাচের তৃতীয় দিনেও প্রতিপক্ষ শিবিরের ওপর এই আগ্রাসী ধারা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর তারা।
নিজের কেরিয়ারের ৫০তম প্রথম শ্রেণির ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখতে পুরোপুরি সফল হয়েছেন তিনি। এর আগে ভারত ‘এ’ দলের হয়ে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের বিপক্ষে পুদুচেরিতেও বল ও ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছিলেন। নিজের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মুম্বাই দলের হয়ে সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্জন করাই এখন তার মূল লক্ষ্য।
প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে না নেওয়ার বিষয়ে সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি জানান, অতীতে তুলনামূলক দুর্বল দলের বিপক্ষেও হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই স্কোরবোর্ড দেখে প্রতিপক্ষকে দুর্বল মনে না করে শতভাগ মনোযোগ দিয়ে দ্রুত ম্যাচ শেষ করতে চান তিনি। প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত পারফর্ম করার পর ফলো-অন করিয়ে ম্যাচে চালকের আসনে রয়েছে মুম্বাই।
