বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি কেউ খুঁজছেন টিউশনি, কেউ নিজের ডিজাইন কিংবা প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয় করতে চান। আবার কারও প্রয়োজন ব্যানার তৈরি, পার্সেল পৌঁছে দেওয়া কিংবা ছোটখাটো কোনো কাজের জন্য উপযুক্ত মানুষ খুঁঁজে পাওয়া। শিক্ষার্থীদের এসব চাহিদা ও সম্ভাবনাকে এক সুতোয় গাঁথতে ‘বলয়’ নামে একটি অ্যাপ তৈরি করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) দুই তরুণ। তাঁদের লক্ষ্য, শিক্ষার্থীদের দক্ষতাকে কাজের সুযোগে রূপ দেওয়া এবং আয়ের নতুন পথ তৈরি করা। আপাতত দুই বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে যাত্রা শুরু করা এই উদ্যোগ আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ছড়িয়ে দিতে চান তাঁরা।
উদ্যোক্তা দুই তরুণ হলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী জায়িফ হাসান এবং রুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী মাহিন বিন হাসান। তারা দুজনই ঢাকার নটর ডেম কলেজের সহপাঠী ছিলেন।
গত ১০ সেপ্টেম্বর পরীক্ষামূলকভাবে যাত্রা শুরু করে বলয়। পরে ৭ অক্টোবর গুগল প্লেস্টোরে অ্যাপটি উন্মুক্ত করা হয়। এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ছাড়াই প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী এতে যুক্ত হয়েছেন। বর্তমানে রাবি ও রুয়েট ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচিতি বাড়িয়ে প্ল্যাটফর্মটিকে আরও কার্যকর করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের। বলয় মূলত শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উন্মুক্ত কাজের বাজার। এখানে কোনো শিক্ষার্থীর ব্যানার ডিজাইন, টিউটরিং, পার্সেল পৌঁছে দেওয়া কিংবা ছোটখাটো প্রযুক্তিগত কাজের প্রয়োজন হলে তিনি অ্যাপে কাজের বিবরণ ও পারিশ্রমিক উল্লেখ করে পোস্ট দিতে পারবেন।
এ ব্যবস্থায় একদিকে কাজের প্রয়োজন থাকা শিক্ষার্থী সহজে উপযুক্ত ব্যক্তি খুঁজে পাবেন, অন্যদিকে দক্ষতা থাকা শিক্ষার্থীরা নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে পড়াশোনার পাশাপাশি যারা আয় করতে চান, তাদের জন্য এটি সম্ভাবনার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভুয়া পরিচয় ও প্রতারণার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে নিবন্ধনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র যাচাইয়ের ব্যবস্থা রেখেছেন উদ্যোক্তারা। কোনো কাজ নিয়ে বিরোধ কিংবা প্রতারণার অভিযোগ উঠলে অ্যাপের মাধ্যমে তা জানানোর সুযোগ রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর টোকেন কেটে নেওয়া কিংবা অ্যাপ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে কাজের পারিশ্রমিক সরাসরি শিক্ষার্থীদের মধ্যে লেনদেন হওয়ায় এ ক্ষেত্রে একটি সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। কোনো লেনদেন নিয়ে সমস্যা হলে অ্যাপ কর্তৃপক্ষ অর্থ ফেরতের দায় নেয় না। ফলে কাজ নেওয়া কিংবা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়, কাজের শর্ত ও পারিশ্রমিক সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
