দুর্গাপুজোয় সন্ধিপুজো মানেই দেবী চামুণ্ডার আরাধনা। অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণের এই পুজো তাই ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আর এই পুজোকে কেন্দ্র করে সোমবার পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরের দেবী চামুণ্ডা মন্দিরে ভিড় উপচে পড়ল ভক্তদের। মনোস্কামনা পূরণে এদিন সকাল থেকেই দূরদূরান্তের ভক্তরা ভিড় করেন দেবীর মন্দিরে।
মন্তেশ্বরের মাইচপাড়ায় এই মন্দির অবস্থিত। বৈশাখী শুক্ল পক্ষের অষ্টমী তিথিতে দেবীর বাৎসরিক পুজো হলেও দুর্গাপুজোর সময় দেবীকে দুর্গারূপে আরাধনা করা হয়। কারণ দেবী দুর্গার আর এক রূপ দেবী চামুণ্ডা। শুধু তাই নয়, মন্তেশ্বরে দেবী চামুণ্ডার পুজো হওয়া স্থানগুলিতে দুর্গাপুজো হলেও দেবী চামুণ্ডাকে সম্মান জানাতে আনা হয় না কোনো দুর্গাপ্রতিমা। মাইচ পাড়ার চৌধুরী ও জোকারিপাড়ার রায় বাড়ির দুর্গাপুজোয় দেবী দুর্গার আরাধনা ধুমধাম করে হলেও পুজো হয় নবপত্রিকায়। অন্যদিকে দেবী চামুণ্ডার মন্দিরে চারদিন ধরে দুর্গা রূপে পুজো করা হয় দেবী চামুণ্ডাকে।
অষ্টমীর দিন সন্ধিপুজোয় এদিন হাজার-হাজার ভক্তদের ভিড়ে উপচে পড়ে মন্দির প্রাঙ্গন। ১০৮ টি পদ্মফুল দিয়ে পুজো, আরতি, বলিদান পর্ব চলে। সেবাইতরা জানান, দুর্গাপুজোয় সন্ধিপুজোকে সবচেয়ে শুভ সময় বলে মনে করা হয়। কারণ এইসময় দেবী দুর্গাকে চামুণ্ডা রূপে পুজো করা হয়। যিনি চণ্ড ও মুণ্ড দুই অসুরকে বধ করেছিলেন। রামায়ণে রামচন্দ্র রাবণ বধের লক্ষ্যে মা দুর্গার অকালবোধন করেছিলেন। সন্ধি পুজো করেছিলেন। এখানেও সেই সময় চামুণ্ডার পুজো করা হয়। এই পুজোকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আচার হিসাবে বিবেচনা করা হয়। ভক্তরা জানান, “সন্ধিপুজো মানেই দেবী চামুণ্ডার পুজো। মন্তেশ্বরে দেবী চামুণ্ডার অবস্থান। সেইসময় দেবীর কাছে আসা পুষ্পাঞ্জলি দেওয়াটাও সৌভাগ্যের ব্যাপার। দেবী সকল মনোস্কামনা পূরণ করেন।”
