কুণাল ঘোষের সঙ্গে দু’জন পুলিশকর্মী থাকার পরেও কী ভাবে তাঁর উপর দল বেঁধে হামলা (মব অ্যাটাক) চলল? সোমবার তা নিয়ে প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাই কোর্ট। কুণালের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যও নির্দেশ দিল পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে। তবে বিধায়কের জন্য এখনই অতিরিক্ত কোনও পুলিশি নিরাপত্তার নির্দেশ দেয়নি আদালত।
গত মাসে পর পর দু’দিন হামলা হয় কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক কুণালের উপরে। প্রথম ঘটনাটি ঘটে ২৬ সেপ্টেম্বর, উত্তরপাড়ায়। শ্রীরামপুরে মমতার সভাস্থলের দিকে যাওয়ার পথে কুণালের গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর এবং ডিম ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে তার পরের দিন। এ বার নিজ বিধানসভা কেন্দ্র বেলেঘাটাতেই আক্রান্ত হন কুণাল। পর পর ওই হামলার ঘটনায় হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন কুণাল।
সোমবার মামলাটি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে। সেখানে বিধায়কের আইনজীবী সওয়াল করেন, শুধু ডিম ছোঁড়া নয়, ‘মব অ্যাটাকের’ শিকার হয়েছেন তাঁর মক্কেল। এজলাসে আইনজীবী জানান, কুণাল আগে ওয়াই ক্যাটেগরি নিরাপত্তা পেতেন। এখন তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাঁকে দু’জন নিরাপত্তাকর্মী দেওয়া হয়। আইনজীবীর সওয়াল, বর্তমান নিরাপত্তায় তাঁর মক্কেলের জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। পাইলট কার-সহ নিরাপত্তার আর্জি জানান তিনি।
শুনানিতে বিচারপতি ভট্টাচার্যের প্রশ্ন, “দু’জন পুলিশকর্মী সঙ্গে থাকা সত্ত্বেও দল বেঁধে এমন হামলার মতো ঘটনা কী ভাবে ঘটল?” তবে এখনই অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তার কোনও নির্দেশ দেননি তিনি। পুলিশ কমিশনারকে জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে এবং কুণাল যাতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ কথা জানিয়ে মামলাটি হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন বিচারপতি ভট্টাচার্য।
ডিমবর্ষণ সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলা ইতিমধ্যে বিচারাধীন রয়েছে হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে। কুণালের মামলাটিও সেটির সঙ্গেই শোনা হবে। ডিভিশন বেঞ্চে পরবর্তী শুনানির দিন আদালতে রিপোর্ট পেশ করবেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার।
