স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ
নগরবাসীর চাহিদা অনুযায়ী নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, উন্নয়ন পরিকল্পনায় জনগণের অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গাজীপুরে সিটি লেভেল কো-অর্ডিনেশন কমিটির (সিএলসিসি) সদস্যদের তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বুধবার (১৪ অক্টোবর) সমাপ্ত হয়েছে।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এসএনভির যৌথ আয়োজনে ১২ থেকে ১৪ অক্টোবর গাজীপুরের ছুটি রিসোর্টে ‘নগরভিত্তিক পানিচক্রের টেকসই রূপান্তর’ প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকার। সভাপতিত্ব করেন সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোঃ ফিরোজ আল মামুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) আহমেদ হোসেন ভূঁইয়া এবং প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সানিউল কাদের, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দসহ সিটি কর্পোরেশনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সম্মানিত সি এল সি সি সদস্যবৃন্দ।
সমাপনী বক্তব্যে প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকার নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, নগরীর সমস্যা ও নাগরিকদের প্রকৃত চাহিদা চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারলে সেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সিএলসিসি সদস্যদের প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে এলাকার সমস্যা তুলে ধরা, উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা করা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিটি কর্পোরেশনের সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল হামিদ সরকার। প্রশিক্ষণে এসএনভির গভর্ন্যান্স অ্যাডভাইজার প্রশান্ত শর্মা ও ট্রেনিং কনসালট্যান্ট সাজেদা ইয়াসমিন যুক্ত ছিলেন।
প্রশিক্ষণে সিএলসিসি সদস্যদের দায়িত্ব ও কার্যক্রম, অংশগ্রহণমূলক সভা পরিচালনা, নাগরিকদের মতামত সংগ্রহ, সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্থানীয় জনগণের অগ্রাধিকার তুলে ধরার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনের বাজেট, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রাজস্ব কার্যক্রম সম্পর্কে নাগরিকদের অবহিত করা এবং তাঁদের মতামত গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
নারী, যুবসমাজ, নিম্নআয়ের মানুষ ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং নারীদের নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণে কার্যকর সভা পরিচালনা, দলীয় আলোচনা, যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কর্মপরিকল্পনা তৈরির দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সিএলসিসি সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার সমস্যা ও চাহিদা আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরতে পারবেন। এর ফলে নাগরিক সেবার সমন্বয়, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং জবাবদিহিমূলক নগর ব্যবস্থাপনা আরও গতিশীল হবে।
