আগামী বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মধ্যেই বহুল প্রত্যাশিত পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
আজ রোববার পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবারিয়ায় পদ্মা ব্যারাজের প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন ও কারিগরি দলের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ২০০৪ সালে দেশের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিএনপি সরকার পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে অন্যান্য সরকারের রাজনৈতিক ব্যর্থতার কারণে এই প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি।
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, অতীতের সরকার দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য না দিয়ে পাশের দেশের ইশারায় চলেছে। নিজেদের শক্তি ও সাহসের অভাবে বড় কোনো সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে তারা ব্যর্থ হয়েছিল।
২০১৬ সালে তিস্তা ব্যারাজসহ বড় বড় প্রকল্প নিয়ে মানুষ নানা প্রত্যাশা করলেও সদিচ্ছা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অভাবে সেগুলো বাস্তবায়িত হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনির্বাচিত সরকারের পক্ষে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। কিন্তু বর্তমান নির্বাচিত সরকার দেশের স্বার্থ ও জনগণের অধিকারকে সবার আগে প্রাধান্য দিয়ে এই মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
নির্বাচিত হওয়ার আড়াই মাসের মাথায় বর্তমান সরকার এমন একটি সাহসী উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, এটি একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ হলেও তা সফল করতে আমরা দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছি। প্রথম পর্যায়ে এ প্রকল্পের জন্য প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় পর্যায়সহ মোট ৫০ থেকে ৫৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প শেষ করা হবে।
প্রকল্পের মেয়াদ প্রায় সাত বছর হলেও, তা বাস্তবায়নে সামান্য কম-বেশি সময় লাগতে পারে বলেও জানান শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
প্রকল্পের সুফল সম্পর্কে পানিসম্পদমন্ত্রী জানান, দেশের তিন ভাগের এক ভাগ জনগোষ্ঠী অর্থাৎ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় সাত কোটি মানুষ এই প্রকল্পের সুফল ভোগ করবেন। এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।
প্রকল্প পরিচালক হাসান মাহমুদ জানান, নদীর গভীরতা পরিবর্তনের কারণে ২০১৬ সালে প্রণীত পদ্মা ব্যারাজের নকশায় অবস্থানগত কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। আগামী দেড় বছরের মধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সব কাজ শেষ করা হবে। এই ব্যারাজের উজানে ১৬৫ কিলোমিটার নদী অংশে পানি রিজার্ভ করা হবে। ফলে পানির চাপ ও উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পাবনাসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার শহর রক্ষা বাঁধের উচ্চতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও প্রকল্পে রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া, বর্ষাকালে ব্যারাজের ৭৮টি গেট খোলা থাকবে, ফলে বড় ধরনের বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই বলেও জানান তিনি।
