পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে হাজার মাইল দূরে পাড়ি জমান তারা। কারও কাঁধে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দায়িত্ব, কারও অপেক্ষায় স্ত্রী-সন্তান। প্রিয়জনদের ভালো রাখতে বিদেশের মাটিতে দিনরাত পরিশ্রম করেন প্রবাসীরা। কিন্তু সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে কার্যক্রম সীমিত থাকায় অনিশ্চয়তায় পড়েছে তাদের কর্মস্থলে ফেরার যাত্রা। একদিকে স্থগিত ১০০টি ফ্লাইটে ভোগান্তিতে ১৫ হাজার ৩৯৩ যাত্রী, অন্যদিকে চাকরি হারানোর ভয়। এমন পরিস্থিতিতে বাড়তি অর্থ খরচ করেও বিকল্প পথে সৌদি আরবে যাওয়ার চেষ্টা করছেন অনেক প্রবাসী।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবগামী ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় হাজারো যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পারায় তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা।
চাকরি হারানোর শঙ্কায় কেউ কেউ বিকল্প রুটে মদিনা কিংবা জেদ্দা হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ জন্য গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। তবু তাদের প্রধান চাওয়া, নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছে চাকরি ও আয় ধরে রাখা।
প্রবাসীদের জন্য সময়মতো কর্মস্থলে ফেরা শুধু যাতায়াতের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা। নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দিতে না পারলে আয় ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চাকরি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। তাই বাড়তি খরচ ও দীর্ঘ যাত্রার ঝক্কি মেনেও বিকল্প পথ খুঁজছেন অনেকে।
এর সঙ্গে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ। আকাশপথে অনিশ্চয়তা ও অতীতের হামলার খবর তাদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবু পরিবারের দায়িত্ব যাঁদের কাঁধে, তাদের অনেকের কাছেই কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার বিকল্প নেই।
প্রবাসীদের কাছে বিদেশ মানে শুধু একটি কর্মস্থল নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিবারের নিত্যদিনের খরচ, সন্তানের পড়াশোনা, বাবা-মায়ের চিকিৎসা এবং আপনজনদের ভালো রাখার স্বপ্ন। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই অনিশ্চিত যাত্রাপথেও কর্মস্থলে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
