জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে গত শনিবার মুম্বইয়ের ক্রান্তি ময়দানে আয়োজিত ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন ইমরান খান । অভিনেতা-সহ আটক হওয়া একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআরও দায়ের করেছিল মুম্বই পুলিশ। সেই প্রেক্ষিতেই বড় শাস্তির খাড়া নেমে এসেছে বলিউড অভিনেতার উপর। অবিলম্বে ইমরানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিস জারি করেছে মুম্বই পুলিশ। সংশ্লিষ্ট ইস্যুতেই এবার সুর চড়ালেন কুব্বারা সইত।
আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলাম, ইমরান খানকে ভারত ছাড়তে বলা হয়েছে, কারণ তিনি একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। এটি ছিল আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে— যে জায়গাটি ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলন’-এর সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে যুক্ত।”
‘সেক্রেড গেমস’ অভিনেত্রী বরাবরই স্পষ্টবক্তা। রিল হোক বা রিয়েল, বোল্ড বাক-বিস্ফোরণে কাউকে রেয়াত করেন না। এবার ইমরান খানের বিরুদ্ধে জারি হওয়া ‘ভারত ছাড়ো’ নোটিসকে ব্যাঙ্গাত্মক খোঁচা অভিনেত্রীর। গণতন্ত্রের হয়ে প্রশ্ন তোলায় কেন এত বিতর্ক? প্রশ্ন তুললেন কুব্বারা। অভিনেত্রী এক ভিডিও বার্তায় অভিনেত্রীর মন্তব্য, “কী ঘটছে চারপাশে? আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলাম, ইমরান খানকে ভারত ছাড়তে বলা হয়েছে, কারণ তিনি একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। এটি ছিল আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে— যে জায়গাটি ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলন’-এর সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে যুক্ত।” এরপরই সরকারকে খোঁচা দিয়ে নায়িকার প্রশ্ন, আপনারা জানেন, এখন কে ভয়ে কাঁপছেন? শেক্সপিয়ার! বাকি সবাইও কাঁপছে, কারণ তরুণরা নতুন ভোটার তালিকা নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্ন করছে। হাজারখানেক মানুষকে আটক করা হয়েছে। কেন? কারণ ওরা শুধুই প্রশ্ন করেছিল।” কুব্বারা সইতের কথায়, “গণতন্ত্র কি এখন প্রশ্নাতীত? এরকম হলে তো এটা কেবল একটি গ্রুপ চ্যাটে দাঁড়াবে, যেখানে কেবল অ্যাডমিনরাই একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন, বাকিদের প্রশ্নের অধিকার নেই।” ‘সেক্রেড গেমস’ অভিনেত্রীর এহেন মন্তব্যই এখন ভাইরাল।
অভিযোগ, ইমরান খান ভারতীয় নাগরিক না হওয়া সত্ত্বেও বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। যা কিনা অভিবাসন আইন বিরুদ্ধ। অনুমান, অভিনেতা মার্কিন নাগরিক। তবে, ইমরান খান যে ভারতীয় নাগরিক নন- তার সপক্ষে কোনও প্রমাণ এখনও নেই। বলিউড মাধ্যম সূত্রে খবর, অভিনেতা অনাবাসী ভারতীয় কার্ড হোল্ডার। এদিকে অনাবাসী ভারতীয় আইনে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে যোগ দেওয়া নিয়ে নির্দিষ্টভাবে কিছু বলা নেই। আগে থেকে অনুমতি নেওয়ারও উল্লেখ নেই। তবে তার অর্থ এই নয় যে, তাঁদের রাজনৈতিক কার্যকলাপ অনুমোদিত হবে। নাগরিকত্ব আইনের ৭-বি ধারা অনুযায়ী, ভারতীয় নাগরিকদের জন্য বরাদ্দ নির্দিষ্ট কিছু অধিকার অনাবাসী ভারতীয় কার্ডধারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বিদেশি নাগরিক হিসেবে এই কার্ডধারীরা ভারতের সাধারণ নাগরিকদের মতো অধিকার দাবি করতে পারেন না। কোনও অভিযোগ বা ভিসা সংক্রান্ত নিয়মকানুন লঙ্ঘনের অভিযোগ জমা পড়লেই অপরাধ প্রমাণ হয় না। ফলে তার দরুণ দেশ থেকে বহিষ্কৃত করার যুক্তিও খাটে না সাধারণত।
