আজকাল ওয়েবডেস্ক: চোরবাগানের পুজো মণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। নিহতদের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা ও মেডিক্যাল পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, নিহত ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের পাশে থাকতে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে প্রশাসনের আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নির্দিষ্ট আধিকারিকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিহতদের দেহ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনাও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, দূরবর্তী এলাকায় থাকা পরিবারের কাছে পৌঁছনোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। আগামী দু’দিন ধরে এই কাজ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা, তাঁদের প্রতি সমবেদনা জানানো এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
ভিড় নিয়ন্ত্রণে কলকাতা-সহ বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ডেপুটি কমিশনার, ওসি এবং আইসিদের নিজ নিজ এলাকায় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে। যেখানে দর্শনার্থীদের ভিড় বেশি, সেখানে আধিকারিকদের দ্রুত পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুজোর সময় ট্রাফিক ব্যবস্থার উপরেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি নিজেও লালবাজারের ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমে বেশ কিছুটা সময় কাটিয়ে শহরের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন। দর্শনার্থীদের যাতায়াত যাতে সাধারণ মানুষের চলাচল ও যানবাহন ব্যবস্থাকে অতিরিক্ত সমস্যায় না ফেলে, সে দিকেও নজর রাখা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, এই ধরনের দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের মানবিক ভূমিকা পালন করা জরুরি। নিহত ও আহতদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি পুজোর বাকি দিনগুলিতে যাতে একই ধরনের ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করার আবেদনও জানিয়েছেন তিনি।
তবে পদপিষ্টের ঘটনায় ঠিক কী কারণে বিপর্যয় ঘটল, ভিড় নিয়ন্ত্রণে কোথায় ঘাটতি ছিল এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেই প্রশ্নগুলিও তদন্ত ও প্রশাসনিক পর্যালোচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
