The Sangbad · সাধারণ
পীরগঞ্জে কিশোরকে গাছে বেঁধে রাতভর নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল
১৮/১০/২০২৬

রংপুরের পীরগঞ্জে জামায়াত নেতার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের অভিযোগে এক কিশোরকে গাছে বেঁধে রাতভর নিষ্ঠুর নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে উপজেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের সুজারকুঠি নামাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক।প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টুকুরিয়া ইউনিয়নের সুজারকুঠি গ্রামের বাসিন্দা আতাউর মাস্টার স্থানীয় টুকুরিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সহসভাপতি। তার মেয়ে স্থানীয় টুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। একই বিদ্যালয়ের একই শ্রেণিতে পড়ুয়া দুদিয়াবাড়ি গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলের সঙ্গে জেরিনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেন আতাউর মাস্টার ও তার স্বজনরা।কেবল সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে গত শনিবার রাত ৯টার দিকে কিশোর সাজিদকে ধরে নিয়ে যান ওই জামায়াত নেতা ও তার লোকজন। এরপর সাজিদকে একটি গাছে রশি দিয়ে হাত বেঁধে লাঠি ও প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে কিশোরটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললেও জামায়াত নেতার স্বজন ও পরিবারের কয়েকজন নারী সদস্য তাকে মারধর করতে থাকেন বলে জানা যায়।খবর পেয়ে সাজিদের স্বজনরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেন আতাউর মাস্টার ও তার সহযোগীরা। পরে রোববার ভোরে স্বজন ও এলাকাবাসীকে ডেকে এনে সাজিদকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।নির্যাতনের শিকার সাজিদ হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে জানায়, মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে সারা রাত গাছে হাত বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে।রোববার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্যাতনের সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা আতাউর মাস্টার বলেন, ‘আমি জামায়াত করি, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সহসভাপতি। ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতিসহ আমরা পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করেছি।’মারধরের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, ‘একটু শাসন করা হয়েছে।’এ বিষয়ে টুকুরিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানতে পেরে রাতে সেখানে গিয়েছিলাম। পরে অসুস্থ বোধ করায় চলে আসি।’এদিকে নির্যাতিত সাজিদের স্বজনরা জানান, জামায়াত নেতা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় পুরো ঘটনাটি চেপে যাওয়ার জন্য তাদের অনবরত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ভয়ের কারণে তাদের কেউ প্রকাশ্যে নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক বলেন, ‘এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মূল প্রতিবেদনে যান ↗