বিধায়ক লক্ষ্ণণ ঘোড়ুই। পাশে, কর্মিবর্গ, জনঅভিযোগ ও পেনশন মন্ত্রকের সেই চিঠিEi Samay
Published on
:
2 min read
এই সময়, দুর্গাপুর: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে দুর্গোৎসবের আবহে বিতর্কে জড়ালেন দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণচন্দ্র ঘোড়ুই। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি বিধানসভার স্পিকারের সামনে উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়ে দিল্লি থেকে রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষের প্রধান সচিবকে চিঠি পাঠাল ভারত সরকারের কর্মিবর্গ, জনঅভিযোগ ও পেনশন মন্ত্রক। ১২ অক্টোবরের এই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতিমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক মহলে চরম শোরগোল শুরু হয়েছে।
গোপালমাঠ অঞ্চলের বাসিন্দা তথা ভূমিরক্ষা কমিটির সভাপতি ধ্রুবজ্যোতি মুখোপাধ্যায় বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে চিঠি লিখে ও মেল করে অভিযোগ দায়ের করেন। ২০২১ সালে প্রথম বার এবং ২০২৬-এ দ্বিতীয় বারের জন্য বিধায়ক নির্বাচিত হন লক্ষ্মণ। অভিযোগকারীর দাবি, বিধায়ক হওয়ার আগের ও বর্তমান সম্পত্তির পরিমাণের ফারাক এবং লক্ষ্মণের ছেলের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ইসিএলে চাকরি পাওয়া সমেত একাধিক বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ সমেত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অভিযোগ জানানো হয়।
ধ্রুবজ্যোতির বক্তব্য, 'প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে চিঠি পাঠালে সেখান থেকে জানানো হয়, পিজি পোর্টাল বা পাবলিক গ্রিভান্স পোর্টালে অভিযোগ করতে হবে। সেই মতো পিজি পোর্টালে অভিযোগ করি। লিখিত অভিযোগের সঙ্গে বেশ কিছু তথ্যপ্রমাণ দিয়েছি। সেখান থেকে আমার কাছে উত্তর এসেছে। জানানো হয়েছে, চিঠি পাঠানো হয়েছে রাজ্যের বিধানসভার অধ্যক্ষের প্রধান সচিবের কাছে।' ধ্রুবজ্যোতি স্পষ্ট বললেন, 'অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমি সর্বদা লড়াই করেছি। মাথা নত করিনি। এ ক্ষেত্রেও মাথা নত করব না।' উল্লেখ্য, চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্র থেকে একজন নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ধ্রুবজ্যোতি।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রক সূত্রে প্রাপ্ত চিঠির প্রেক্ষিতে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সিদ্ধার্থ বসু বলেন, 'লক্ষ্মণ ঘোড়ুই যখন তৃণমূলের সময়ে বিধায়ক ছিলেন তখন থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। কারখানা মালিক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তোলা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। দ্বিতীয় বার বিধায়ক হয়ে এবং বিজেপি ক্ষমতায় এলে আরও প্রভাব বেড়ে যায় লক্ষ্মণের। নিজের দুর্গাপুজোর নামে প্রচুর টাকা তুলেছেন লক্ষ্মণ। তাঁর অনিয়মের বেশ কিছু তথ্যপ্রমাণ রয়েছে ধ্রুবজ্যোতির কাছে। আমরা চাই লক্ষ্মণের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত হোক।' একই ভাবে জেলা কংগ্রেস সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী বলেন, 'বিজেপির তো সবাই চোর। সঠিক ভাবে তদন্ত করা হলে লক্ষ্মণের বিরুদ্ধে এমন অনেক অভিযোগ প্রকাশ্য আসবে। আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্ত হোক।' তবে এই অভিযোগ ও চিঠি প্রসঙ্গে লক্ষ্মণের প্রতিক্রিয়ার জন্য় তাঁকে একাধিক বার ফোন করা হয়। তিনি ফোন তোলেননি। মেসেজ করা হলেও উত্তর দেননি।
