আজকাল ওয়েবডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় ‘সরকার পরিবর্তনের’ (রেজিম চেঞ্জ) ডাক নিয়ে যখন বিতর্ক তুঙ্গে। এবার আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের মুখেও 'রেজিম চেঞ্জ' প্রসঙ্গ। মঙ্গলবার সকালে বার্ষিক দশেরা বক্তৃতায় এই বিষয়টি উত্থাপন করেন রাষ্ট্রীয় স্বংয় সেবক সংঘের প্রধান। ফ্রান্স, আলবেনিয়া এবং অতীতে বাংলাদেশ ও নেপালে ঘটে যাওয়া হিংসার দিকে ইঙ্গিত করে মোহন ভাগবত বলেন, "ভারতেও একই ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।"
চলমান বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “পশ্চিমী বিশ্বে একটি ঝড় বয়ে গিয়েছে। ফ্রান্স, বাংলাদেশ ও নেপালে যা ঘটেছে, তা দেখুন। ভারতে সরকার পরিবর্তন হবে না। ভারতেও এমন প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে ভারত অবিচল সংকল্প নিয়ে এগিয়ে চলেছে এবং সমাজের সম্মিলিত প্রাণশক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে।”
বিক্ষোভ বা প্রতিবাদ হওয়া স্বাভাবিক- এ কথা স্বীকার করলেও, ভাগবত জোর দিয়ে বলেন যে, প্রতিবাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত সমাধান খোঁজা, বিদ্বেষ ছড়ানো নয়। আরএসএস প্রধানের কথায়, “সমস্যা দেখা দেয় এবং আন্দোলন গড়ে ওঠে। তবে এগুলোর লক্ষ্য হওয়া উচিত সমাধান খুঁজে বের করা। মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সমস্যার নিরসন। আমাদের কর্মকাণ্ডে যেন বিদ্বেষ না ছড়ায় এবং শালীনতার সীমা (মর্যাদা) বজায় রাখা হয়।”
ভাগবত আরও বলেন, বিক্ষোভ বা আন্দোলন কেবল ভোট বা জনপ্রিয়তা পাওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হওয়া উচিত নয়। তিনি সমাজে আলোচনার পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান।
ভাগবত বলেন, “এই ধরনের প্রচেষ্টা যেন ভোট বা সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা দ্বারা চালিত না হয়। কেবল আন্দোলনের মাধ্যমেই সমাধান পাওয়া যায় না। প্রকৃত সমাধান আসে সমাজের ভেতর পারস্পরিক আলোচনা ও কথোপকথনের মাধ্যমে।” তিনি অসন্তোষ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টায় লিপ্ত শক্তিগুলোর বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন।
ভাগবত বলেন, “বিভিন্ন শক্তি এমন পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে যেখানে মানুষ নিজেদের ‘ভুক্তভোগী’ বলে মনে করে। তারা অসন্তোষ ও বিশৃঙ্খলা উস্কে দিচ্ছে। বিভ্রান্তি ও বিভেদ সৃষ্টির এই ফাঁদে পা দেওয়া থেকে বাঁচতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
এছাড়া, ভাগবত ভারতের ঐক্য বজায় রাখা এবং দেশের বৈচিত্র্য সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, "এটি স্পষ্ট যে, বিভাজনমূলক প্রবণতা থেকে সৃষ্ট বুদ্ধিবৃত্তিক বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে সতর্ক থেকে আমাদের পারস্পরিক সদিচ্ছাকে রক্ষা করতে হবে। আমাদের সজাগ থাকতে হবে, কোনওভাবেই বিচলিত বা প্ররোচিত হওয়া চলবে না। আর ভারতকে 'বিশ্বগুরু' হিসেবে দেখার যে আকাঙ্ক্ষা ও লক্ষ্য আমাদের রয়েছে, তা সর্বদা মনে রেখে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।"
আরএসএস প্রধানের কথায়, "আমাদের ব্যক্তিগত অহংবোধ, নিজেদের ও অন্যদের উপাসনা পদ্ধতি নিয়ে লালিত ভুল ধারণা এবং বৈচিত্র্যকে বিচ্ছিন্নতা হিসেবে দেখার প্রবণতা- এসবই বর্জন করতে হবে। ভারতমাতার প্রতি ভক্তি, পূর্বপুরুষদের নিয়ে গর্ব এবং ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি অঙ্গীকার- এই ত্রিবিধ বন্ধনকে সর্বান্তকরণে গ্রহণ করে আমাদের জাতির সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে হবে।"
