আইপিএলের আগামী মরশুমে ফের একসঙ্গে দেখা যাবে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও যুবরাজ সিংকে। এবার অবশ্য ক্রিকেটার হিসাবে নয়, কোচের ভূমিকায়। দিল্লি ক্যাপিটালসের হেডকোচ হয়েছেন সৌরভ। তাঁর সহকারী তথা ব্যাটিং কোচ হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছেন যুবরাজ। দিল্লির কোচিং দলে যোগ দেওয়ার আগে যুবরাজকে কী প্রশ্ন করেছিলেন সৌরভ? সেই কথাই এবার ফাঁস করলেন ভারতের প্রাক্তন অলরাউন্ডার।
২০০০ সালে সৌরভের অধিনায়কত্বেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল যুবরাজের। কেরিয়ারের বিভিন্ন সময়ে নিজের সাফল্যের নেপথ্যে সৌরভের অবদানের কথা স্বীকার করেছেন তিনি। এবার সেই সৌরভের সঙ্গেই নতুন ভূমিকায় জুটি বাঁধতে চলেছেন যুবি। দিল্লি ক্যাপিটালসের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওয় পুরনো সম্পর্কের সেই রসায়নই তুলে ধরেছেন তিনি। দিল্লির কোচিং দলে যোগ দেওয়ার আগে যুবরাজের সঙ্গে কথা হয়েছিল মহারাজের। তাঁকে সরাসরি প্রশ্ন করেছিলেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক। যুবরাজ বলেন, “দাদা আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘তুমি কি আমার সহকারী হিসাবে কাজ করবে?’ আমি বলেছিলাম, ‘গত ২৫ বছর ধরেই তো আমি তোমার সহকারী। এবারও সেই একই কাজ করব’।”
সৌরভের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু হয়েছিল যুবরাজের। দীর্ঘ ২৫ বছরের সেই সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তাঁর এই জবাব যেন পুরনো দিনের স্মৃতিই ফিরিয়ে আনল। তবে এবার মাঠে ব্যাট হাতে নয়, সাজঘরে ক্রিকেটারদের তৈরি করার দায়িত্ব সামলাবেন যুবরাজ। নতুন দায়িত্ব পেয়ে যথেষ্ট খুশি তিনি। শুভমান গিল, অভিষেক শর্মার মতো ক্রিকেটারদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যুবরাজের ভূমিকা অপরিসীম। গত কয়েক বছরে ব্যক্তিগত ভাবে ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ করলেও প্রথমবার একটি গোটা দলের কোচিংয়ের দায়িত্ব সামলানোর সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। যুবরাজ বলেন, “প্রস্তাবটা পেয়ে আমার খুব ভালো লেগেছিল। গত তিন-চার বছর ধরে এই ধরনের দায়িত্ব নেওয়ার জন্যই নিজেকে প্রস্তুত করেছি। আলাদা আলাদা ক্রিকেটারের সঙ্গে কাজ করেছি। তবে এবার প্রথম বার একটা গোটা দলের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাব।”
ক্রিকেটার হিসাবে সৌরভের কাছ থেকে যে শিক্ষা পেয়েছেন, এবার দিল্লির সাজঘরে সেই শিক্ষাই ছড়িয়ে দিতে চান যুবরাজ। তাঁর মতে, একটি দলের সাফল্যের জন্য ক্রিকেটীয় দক্ষতার পাশাপাশি সাজঘরের পরিবেশও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এই জায়গাতেই সৌরভের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছেন তিনি। যুবরাজের কথায়, “দাদার কাছ থেকে আমার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হল, কীভাবে সাজঘরের পরিবেশ হালকা ও প্রাণবন্ত রাখতে হয়। আমার ক্রিকেটজীবন শুরু হয়েছিল ওর অধিনায়কত্বে। দাদা আমাদের নিজেদের উপর বিশ্বাস রাখতে শিখিয়েছিল। বুঝিয়েছিল, আমরাই সেরা এবং দেশের বাইরেও গিয়ে জিততে পারি।” সৌরভকে বরাবরই নিজের বড় দাদা হিসাবে দেখে এসেছেন যুবরাজ। এবার সেই দাদার সঙ্গেই কাজ করার সুযোগ পেয়ে খুশি তিনি। যুবরাজ বলেন, “আমি বরাবরই দাদাকে নিজের বড় দাদা হিসাবে দেখে এসেছি। এবার সেই দাদার সঙ্গেই কাজ করার সুযোগ পাচ্ছি।”
