তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী সাংবাদিক এই সপ্তাহের শুরুতে বিক্ষোভ চলাকালে রাহুল গান্ধী তাকে ধাক্কা দিয়েছেন বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন। তিনি ভারতের বিরোধী দলীয় নেতার বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
সাংবাদিক রিচা পরাশর দাবি করেছেন, সোমবার ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে মিছিলে রাহুল গান্ধী তার হাত ধরে এমন জোরে টান দেন, তাতে তিনি সিঁড়িতে পড়ে যান এবং তার পেট মাটিতে আঘাত পায়।
‘ওয়ানইন্ডিয়া’ শীর্ষক সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইটের সাংবাদিক রিচা পরাশর হাসপাতালের বিছানা থেকে বলেন, ‘আমি সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে একটি গেটের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম, রাহুল গান্ধীর কাছ থেকে একটি মন্তব্য নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম। কী ঘটছে তা বুঝে ওঠার আগেই, রাহুল গান্ধী অত্যন্ত বিরূপ ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। হঠাৎ তিনি আমার হাত ধরে সামনের দিকে জোরে টান দেন। তিনি আমাকে এতটাই জোরে টানেন যে—সবকিছু এত দ্রুত ঘটে গেল। তার দেহরক্ষীরা আমাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। আমি মুখ থুবড়ে সুপ্রিম কোর্টের সিঁড়িতে পড়ে যাই।’
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রিচা পরাশর নয়াদিল্লির ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশের কাছে একটি অভিযোগপত্র জমা দেন। তিনি রাহুল গান্ধী ও অন্যদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে একটি এফআইআর দায়ের করার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে রিচা পরাশর উল্লেখ করেন, তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং তাকে দুর্ব্যবহার, হুমকি ও ধাক্কা দেওয়ার মতো পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে, অর্থাৎ তার ওপর বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে যে ধারাগুলোর উল্লেখ রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—নারীর শালীনতা ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে হামলা বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ, স্বেচ্ছায় আঘাত প্রদান এবং এমন বেপরোয়া বা অবহেলামূলক কাজ, যা মানুষের জীবন বা অন্যের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে তোলে।
ঘটনার সময় কংগ্রেস জানিয়েছিল, সাংবাদিক যে ভিডিওটি প্রকাশ করে এই ঘটনার দাবি করছেন, তাতে আসলে তার বর্ণিত ঘটনার ক্রমটি দেখা যাচ্ছে না।
কংগ্রেস নেত্রী অলকা লাম্বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্সে’ এক পোস্টে লেখেন, ‘গর্ভাবস্থায় প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। বলা হচ্ছে, রাহুল গান্ধী বিকেল ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে তাকে ধাক্কা দিয়েছেন, অথচ তিনি হাসপাতালে গেলেন রাত সাড়ে ৮টায়! তার বোন বিজেপি বিধায়কের অফিসে গিয়ে অপপ্রচার চালানোর ব্যবস্থা করলেন। তার এক্স-রে করা হয়েছে, যা সাধারণত গর্ভাবস্থায় করা হয় না।’
অন্যদিকে, বিজেপি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করেছে। তাদের দাবি, কংগ্রেস কর্মীরাই রিচা পরাশরকে সাহায্য করেননি, আর এখন তারাই তাকে হেয় করার চেষ্টা করছেন।
বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি বলেছেন, যিনি ‘পিতৃতন্ত্র ভাঙার’ কথা বলেন, সেই রাহুল গান্ধী একজন গুন্ডার মতো আচরণ করেছেন। দেশের নারীদের উচিত কংগ্রেসের আসল চেহারা দেখে নেওয়া। রাহুল গান্ধীর বোন প্রিয়াঙ্কা ভাদ্রার ‘আমি মেয়ে, আমি লড়তে পারি’—এই স্লোগানের আড়ালের বাস্তবতাও তাদের বোঝা উচিত।
