চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত বা পরামর্শক কমিটি গঠনের বিষয়ে জরুরি সুপারিশ চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত রবিবার রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক চিঠিতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে এ সুপারিশ চাওয়া হয়। চিঠিতে চুয়েটের সংকট নিরসনে ইউজিসির সদস্য পর্যায়ে তদন্ত বা পর্যালোচনা কমিটি গঠনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব জরুরি ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।
এর আগে গত ১৬ অক্টোবর চুয়েটের ১৪৫তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় সংকট নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে নিরপেক্ষ ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি বা পরামর্শক দল গঠনের সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত ওই সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমসহ সিন্ডিকেটের ১৫ সদস্যের মধ্যে ছয়জন অংশ নেন। চুয়েটের কোনো শিক্ষক প্রতিনিধি সভায় যোগ দেননি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র শিক্ষক প্রতিনিধিও এতে অংশ নেননি।
গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করা হয়। ২৭ জুলাই দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় তাকে পদ ছাড়তে হয়। তার স্থলে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকে সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তারা সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন। প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়া হয়।
পরে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশও কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচিতে যোগ দেন। এতে ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। আন্দোলনের মধ্যেই গত ১২ অক্টোবর নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে তালা ভেঙে নিজের কার্যালয়ে যান। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাকে প্রশাসনিক ভবনে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরের দিন চট্রগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার তাকে নিরাপদে ক্যাম্পাস থেকে বের করে আনেন।
