খুলনা গেজেট অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১০:৩৮ অপরাহ্ণ
এআই ইমেজ
১৮৮৪ থেকে ২০২৬ সাল। পার হল ১৪২ বছর সময়। ব্রিটিশ জামানা পার হয়ে পূর্ব পাকিস্তান বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ আমলেও রেল সেবার তেমন উন্নতি হয়নি। উত্তরবঙ্গের নীলফামারী জেলা থেকে খুলনা স্টেশন পর্যন্ত ৪৪৬ কিমি রেলপথ অতিক্রম করতে ১০ ঘণ্টার পরিবর্তে ১৪ ঘণ্টা লাগে। যাত্রীর যাত্রাপথে প্রতিদিন ৩ ঘণ্টা সময় খেয়ে ফেলছে মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন। এ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এক বছরের বেশি সময় ধরে।
ব্রিটিশ শাসনামলে দূরপাল্লার মাধ্যম ছিল রেল। ১৮৮৪ সালে শিয়ালদাহ থেকে যশোর হয়ে খুলনা পর্যন্ত রেলওয়ের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৪৭ সালে ১৪ আগস্ট ব্রিটিশ জামানার অবসান হয়, শুরু হয় উর্দুভাষীদের শাসনের পূর্ব পাকিস্তান আমল। ২৪ বছর পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মানচিত্র থেকে সেই দেশের নাম পরিবর্তন হয়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জাতি বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভ করে। পাকিস্তান জামানায় খুলনা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও খুলনা-পার্বতীপুর রুটসহ কয়েকটি রুট চালু হয়। উত্তরবঙ্গের যাত্রীদের সুবিধার্থে নীলফামারী জেলার চিলাহাটি থেকে খুলনা পর্যন্ত দু’টি ট্রেন যাতায়াত শুরু করে। একটি সীমান্ত অপরটি রূপসা নামে। চিলাহাটি থেকে খুলনা অবধি ট্রেন দু’টিকে ডোমার, নীলফামারী, সৈয়দপুর, পার্বতীপুর, ফুলবাড়ি, বিরামপুর, জয়পুরহাট, আক্কেলপুর, শান্তাহার, নাটোর, ঈশ্বরদী, ভেড়ামারা, পোড়াদহ, আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা, দর্শনা, কোটচাঁদপুর, যশোর, নওয়াপাড়া ও দৌলতপুর স্টেশন অতিক্রম করে। রূপসা নামক ট্রেনটি প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টায় চিলাহাটি থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। নির্দিষ্টস্থানে পৌঁছানোর সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও তিনঘণ্টা পরে পৌঁছায়। গতকাল ও গতপরশু একই অবস্থার সৃষ্টি হয়। সীমান্ত সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় চিলাহাটি থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে ভোররাত ৪টা ২০ মিনিটে পৌঁছানোর কথা। এ ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ে প্রায় দু’ঘণ্টা থেকে আড়াই ঘণ্টা পরে পৌঁছায়। রূপসা নামক ট্রেনটি সকাল সোয়া ৭টা এবং সীমান্ত নামক ট্রেনটি রাত সোয়া ৯টায় চিলাহাটির উদ্দেশ্যে খুলনা ত্যাগ করে। ফিরতি ট্রেন দু’টি গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে তিন ঘণ্টা দেরি হয়। প্রতিটি ট্রেনে ৮৯৪টি আসন রয়েছে। আসা-যাওয়া দিয়ে দৈনিক উত্তরবঙ্গের এ রুটে তিন হাজারের বেশি যাত্রী খুলনা স্টেশন ত্যাগ করে।
রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার মো: জাকির হোসেনের কাছে শিডিউল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিনের গতি কম। নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছাতে পারে না। তাছাড়া রেল ক্রসিং ও যাত্রী উঠানামায় সময় ব্যয় হয়। শীতের কুয়াশায় অধিকাংশ ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হয়। খুলনা থেকে প্রতিদিন ১১ জোড়া ট্রেন যাতায়াত করে। রেল কর্তৃপক্ষ বলেছেন ইঞ্জিন কম থাকায় শিডিউল বিপর্যয় ঘটছে।
রেলওয়ের যুগ্ম মহাপরিচালক (লোক) মো: বোরহান উদ্দিন শিডিউল বিপর্যয়ের জন্য বগি কম এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিনকে দায়ী করেছেন। এছাড়া ইঞ্জিন সংকটের কারণে এ রুটে তিন ঘণ্টা দেরি হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কেনা তিন হাজার সিরিজের সব ইঞ্জিনগুলো সচল থাকলে শিডিউল বিপর্যয় হতো না। এসব ইঞ্জিনের কার্যকারিতা ২০ বছর থাকলেও ৩০ টি ইঞ্জিনের মধ্যে গত বছরের আগস্টে ২৩টি অচল হয়ে পড়ে। যাত্রী সেবার মান উন্নয়নের জন্য ২০১৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই কোম্পানির সাথে বাংলাদেশ রেলওয়ের চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী এক হাজার ১৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০ ইঞ্জিন কেনা হয়। এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক ও দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের ইকোনমিক ডেভলপমেন্ট কোঅপারেশন ফান্ড থেকে ঋণ নিয়ে এসব ইঞ্জিন কেনা হয়। ২০২০ সালে ইঞ্জিনগুলো সরবরাহ করা হয়। চুক্তিতে উল্লেখ ছিল হুন্দাই কোম্পানি ১২ সিলিন্ডারের ৭১০ সিরিজের ইঞ্জিন দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে তারা ৮ সিলিন্ডারের ইঞ্জিন সরবরাহ করে। রেলওয়ের কর্মকর্তা বলেছেন হুন্দাই কোম্পানি শর্ত বর্হিভুতভাবে ইঞ্জিন সরবরাহ করে। এর ওপর ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় এ ধরনের তঞ্চকতার সাথে দেশি ও বিদেশি চক্র জড়িত। বিষয়টি দুদক আমলে নেয়।
খুলনা গেজেট/এএজে
