কখনো হাসি, কখনো কান্না, আবার কখনো অদ্ভুত সব অভিব্যক্তির মাধ্যমে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওতেই রাতারাতি তারকা বনে গেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোটি কোটি মানুষের হাসির খোরাক, বিনোদনের অনুষঙ্গ— এই মিম তারকারা। কিন্তু পর্দায় ভাইরাল হওয়ার পর তাদের জীবনে কী ঘটেছে? কীভাবে ভাইরাল হন তারা? এখন কে কি করছেন?
ভারতের তেলেঙ্গানার অরুণ কুমারের অট্টহাসির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অভাবের কারণে পড়াশোনা ছেড়ে নেহেরু নামের এক ট্রাক ড্রাইভারের হেল্পারের হিসেবে কাজ করতেন তিনি। একদিন ড্রাইভার ভিডিও করতে করতে তার হাতে এক কাপ চা দিয়ে কৌতুক শুনাত থাকেন। যা শুনেই অট্ট হাসিতে মেতে উঠেন অরুণ। তার মুখ খোলা এমন হাসির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। পরে সবাই ফানি মিমসে ব্যবহার শুরু করেন। ভারত সরকারের নজরে আসার পর কাজের পাশাপাশি তাকে স্কুলে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়া হয়।
আলজেরীয় মিম তারকা নাবিল সেবতিও অদ্ভুত কাণ্ডের জন্য ভাইরাল হয়ে যান। ২০১৩ সালে একটি জনপ্রিয় রিয়েলিটি শোর অডিশনে গান গাইতে গিয়ে উচ্চ সুর ছোঁয়ার চেষ্টা করার সময় গানের বদলে নিয়ন্ত্রণহীন এবং অদ্ভুতভাবে উচ্চস্বরে হাসতে শুরু করেন। প্রতিবার তিনি গানটির সুর তোলার শুরুতেই হাসিতে ফেটে পড়েন। যা মিম হিসেবে বিশ্বজুড়ে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে কাজ করছেন তিনি।
কানাডীয় কনটেন্ট নির্মাতা মোতাহার আনাসও ভৌতিক খেলা খেলতে গিয়ে অদ্ভুত হাসির ভিডিও মিম নির্মাতাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ইউটিউবার, স্ট্রিমার মোতাহার ২০১৬ সালে নিজের ইউটিউব চ্যানেলের একটি ভিডিওতে হরর গেম খেলার সময় ভূতুড়ে দৃশ্যে ভয় পাওয়ার বদলে আচমকা উচ্চস্বরে অট্টহাসি দিয়ে ওঠেন। পরে ২০২০ সালের দিকে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় মিম মেকাররা মজার দৃশ্যে ক্লিপটি ব্যবহার করেন।
সহকর্মীর বোকামি দেখে নিয়ন্ত্রণহীন হাসিতে ফেটে পড়া মার্কিন স্ট্রিমার আইসায়া হেডেনও জায়গা করে নিয়েছেন মিমের জগতে। সহকর্মীর এমন বোকামি দেখে জিয়াস নিজের হাসি ধরে রাখতে না পেরে অত্যন্ত উচ্চস্বরে, চেয়ার ছেড়ে পেছনের দিকে হেলে হাসতে হাসতে চেয়ার ফেলে চলে যান। যা পর্বর্তীতে নেটিজেনরা ফানি ভিডিওতে ব্যবহার শুরু করেন।
স্প্যানিশ কমেডিয়ান হুয়ান জোয়া বোরহা সমুদ্রের একটি গল্প বলতে গিয়ে এমন হাসিতে মেতে ওঠেন, যা তাঁকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করে। বিশ্বব্যাপী ভাইরাল হওয়া এই কমেডিয়ান ২০২১ সালে ৬৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মিম হিসেবে ভারতের আদিত্য কুমারের একটি বক্তব্যের খণ্ডিত অংশও ব্যবহার করেন নেটিজেনরা। বিহারের বাসিন্দা আদিত্য ২০২২ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে নিজের প্রিয় বিষয়কে ভুলবশত বেগুন এবং নরেন্দ্র মোদীর পুরো নাম বলতে না পেরে এ, আ শব্দ করে ভাইরাল হয়ে যান। এখনও তিনি নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এরপরই রয়েছে ডিপ্রেশন বলে ভাইরাল হওয়া শের পাল বৈরাগী। দস্তকাস্ট পডকাস্টে ভারতীয় এই কন্টেন্ট ক্রিয়েটর একটি পডকাস্টে ডিপ্রেশন নিয়ে বলা একটি কথার ভিডিও ক্লিপ ও অভিব্যক্তি সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিম হিসেবে ভাইরাল হওয়ার মাধ্যমে তুমুল পরিচিতি পায়। বর্তমানে তিনি একজন জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর।
এরপরই রয়েছে কাঁদতে কাঁদতে হাসতে থাকা জনপ্রিয় মিমস আবার্ট ওফুসু নকেতিয়া। ঘানার কুমাসি অঞ্চলের ৭ বছর বয়সী শিশুটি মুহূর্তের মধ্যে কান্নামাখা মুখ থেকে হাসিতে রূপান্তর হওয়ার একটি ভিডিওর সুবাদে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পায়। যার ভিডিও সবাই মিমস হিসেবে ব্যবহার করেন।
কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও, একটি হাসি কিংবা অদ্ভুত কোনো অভিব্যক্তি— এতেই বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান তারা। কেউ এখনো আছেন আলোচনায়, কেউ হারিয়ে গেছেন নেটদুনিয়ার নতুন নতুন প্রবণতার ভিড়ে। তবে পর্দায় তাদের নিয়ে যত হাসি-ঠাট্টাই হোক, ক্যামেরার বাইরে প্রত্যেকেরই আছে নিজস্ব জীবন, সংগ্রাম আর গল্প।
