কলকাতায় পূজামণ্ডপে বিপর্যয়, ১৭ জনের মৃত্যুর খবর
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০০ পিএম
আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপূজা মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হুড়োহুড়ি ও ধাক্কাধাক্কিতে বহু মানুষ আহত হয়েছে। এতে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে হতাহতের সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটেছে।
চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপূজা মণ্ডপে ভিড়ের চাপে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলায় হতাহতের ঘটনায় তৎপর হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসন। পরিস্থিতি পরিদর্শনে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহত ৪০ থেকে ৫০ জনকে সেখানে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জনকে এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের সহায়তায় ১৮০০৩৪৫৫৬৭৮ নম্বরে টোল ফ্রি হেল্পলাইন চালু করেছে রাজ্য সরকার।
সপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর এবং মধ্য কলকাতায় ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়। রাস্তায় তৈরি হয় তীব্র যানজট। সে সময় চোরবাগানে মণ্ডপের ভিতরে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, বৃষ্টি থেকে বাঁচতে মণ্ডপের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বহু মানুষ। তারা পরস্পরকে ঠেলাঠেলি করতে থাকেন। তাতেই কয়েক জন মণ্ডপের ভিতরে বৃত্তাকার পথে পড়ে যান। এরপর এ ঘটে।
এসএন/
আরও পড়ুন
নেহা বোরা মুক্ত, অভিজিৎ দিপককে শর্তসাপেক্ষ জামিন
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->ভারতের দিল্লিতে আটক অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি নেহা বোরাকে মুক্তি দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তবে ভোটের কারচুপির অভিযোগে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আটক ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে দিল্লির একটি আদালত শর্তসাপেক্ষ মুচলেকায় তাকেও জামিনের নির্দেশ দেন।
দিল্লি পুলিশ জানায়, আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে নেহা বোরাকে মুক্তি দেওয়া হলেও অভিজিৎ দিপকের বিরুদ্ধে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) নির্দিষ্ট ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে দিপককে আটকের পর তার অবস্থান কিংবা আটকের কারণ স্পষ্ট না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সিজেপি নেতৃত্ব।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নয়াদিল্লির কনট প্লেসে ‘লেহরা দো তেরঙ্গা’ শীর্ষক একটি প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করেছিলেন অভিজিৎ দিপক।
কর্মসূচি শুরুর আগেই নিজ বাসা থেকে তাকে এবং যন্তর মন্তরের কাছ থেকে নেহা বোরাকে আটক করে পুলিশ। একই আন্দোলনের জেরে সিজেপির আরও দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে পাঁচ দিনের কারা হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
মুক্তি পাওয়ার পরই দিল্লি পুলিশ এবং বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন আইসার সভাপতি নেহা বোরা। তার অভিযোগ, বেআইনিভাবে আন্দোলনকারীদের আটক করা হচ্ছে। ভোটার তালিকার বিতর্কিত বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিও জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং তাকে জেলে পাঠানোর দাবিও তুলেছেন।
এএফ/
আরও পড়ুন
রাশিয়ার ওপর আমেরিকার নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক স্থগিত
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০১ পিএম
ছবি:সংগৃহীত
-->রাশিয়ার জ্বালানি খাতের আয় লক্ষ্য করে নতুন করে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা থেকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরে আসার সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ। এ সিদ্ধান্তকে মস্কোর জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) পুতিনের দূত দিমিত্রিয়েভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসনের গ্রাহাম আইন স্থগিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সত্যিকার অর্থেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত।’
এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন। এর মাধ্যমে রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল এর দুই দিন পর।
গত মাসে এ-সংক্রান্ত আইনে সই করার পর ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তার বিরোধ বেড়েছে। এতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর প্রায় পাঁচ বছর পর ওয়াশিংটন ক্রমেই মস্কোর পক্ষ নিচ্ছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। এ যুদ্ধে কয়েক লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
পুতিনের দূত বলেন, আইনটি কার্যকর হলে ‘সবার আগে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক বাজারের গুরুতর ক্ষতি’ হতো।
মার্কিন প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে নামকরণ করা ‘লিন্ডসে গ্রাহাম আইন’-এ রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের পাশাপাশি পুতিন এবং দেশটির অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞার বিধান রাখা হয়েছিল। এ আইনে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতাদের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুযোগও ছিল।
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার তেল পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া নৌবহরের ট্যাংকারগুলোর ওপরও বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা ছিল। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলো মস্কোর ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিষয়ে এখনো ক্রেমলিন বা পুতিনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে শুক্রবার সামরিক পোশাক পরিহিত অবস্থায় পুতিন বলেছিলেন, মস্কো পূর্ব ইউক্রেনের বাকি অংশও দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
এদিকে, নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন জেলেনস্কি। তিনি একে ‘দুর্বল সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করেন। এর পর ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে আবারও হামলা শুরু করেছে। সূত্র: এএফপি
নাঈম/
আরও পড়ুন
নুডলস খাওয়ার পর একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
ছবি: এআই
-->ভারতের গ্রেটার নয়ডার একটি গ্রামে রাতের খাবারে নুডলস খাওয়ার পর একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, খাদ্যে বিষক্রিয়া সম্ভাব্য কারণ হতে পারে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে তারা খাবার হিসেবে নুডুলস খেয়েছিলেন, তারপর এমন ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন- মহেশ (৩৭), তার স্ত্রী ললিতা (৩৫) এবং তাদের তিন সন্তান। তিন সন্তানের মধ্যে দুই ছেলে এবং এক মেয়ে। দুই ছেলের মধ্যে একজনের বয়স ১১ অন্যজন তিন বছর। এছাড়া একমাত্র মেয়ের বয়স সাত বছর।
নয়ডা পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহত দম্পতির মায়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিবারটি শুক্রবার রাতে নুডলস খেয়েছিল। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনার খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাস্থলে স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, শনিবার সকালে তারা এ ঘটনা সম্পর্কে খবর পায়। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, একটি অ্যাম্বুলেন্স, ফরেনসিক দল এবং খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
গ্রেটার নয়ডার সহকারী পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার সিসোদিয়া বলেন, ‘শুক্রবার রাতে রাতের খাবার খাওয়ার পর তারা বিশ্রাম নিচ্ছিলেন এবং বিছানায় ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বলে মনে হচ্ছে। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের মরদেহ দেখতে পাই। কী পরিস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে। এছাড়া পরিবারটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।’
নয়ডা পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, একটি ফিল্ড ইউনিট ও ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল পরীক্ষা করছে এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সংগ্রহ করছে। মৃত্যুর বিষয়ে আইনি তদন্তপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এএফ/
আরও পড়ুন
দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি: ধর্মীয় মেরুকরণ ও পপুলিজমের রাজনীতি
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম
ছবি: এআই
-->দক্ষিণ এশিয়ার আধুনিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি লক্ষণীয় বিষয় হলো-রাজনৈতিক মতাদর্শ, সুশাসন বা জনকল্যাণমুখী ভাবনার চেয়ে ধর্মীয় আবেগ ও পরিচয়ভিত্তিক সংবেদনশীলতাকে ব্যবহার করার প্রবণতা। কোনো কোনো রাজনীতি বিশ্লেষক বিদ্রূপ করে হোক বা শ্লেষাত্মক ভাষায় হোক, রাজনৈতিক দলগুলোর এমন অন্ধ আনুগত্য ও সুনির্দিষ্ট ধর্মীয় এজেন্ডাভিত্তিক অবস্থানকে ব্যঙ্গাত্মক পরিভাষায় সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করেন। তবে এই হালকা চটুলতার গভীরে লুকিয়ে আছে দক্ষিণ এশীয় রাজনীতির এক বিষাদময় ভূ-রাজনৈতিক সত্য।
ভারতের ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং বাংলাদেশের কিছু ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতির ইতিহাস, রূপরেখা ও কার্যপদ্ধতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়-উভয় দলই ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় আবেগকে ভিত্তি করে নিজস্ব সমর্থক গোষ্ঠী গড়ে তুলেছে। একদিকে ভারতে বিজেপি যখন ‘গো-রক্ষা’ বা ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বহুল আলোচিত জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় এজেন্ডা সামনে এনে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ভোট ব্যাঙ্ক সুসংগঠিত করে, অন্যদিকে বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক দল ধর্মভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা ও কঠোর সাংগঠনিক কাঠামোর দোহাই দিয়ে তাদের দলীয় বলয় ও আদর্শিক ভিত্তি বজায় রাখে।
প্রথমত, বিজেপি-র রাজনীতির ক্ষেত্রে দেখা যায়, সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক বা সামাজিক সংকটের চেয়ে অনেক সময় প্রতীকী ধর্মীয় বিষয়াদি প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। ‘গো-রক্ষা’ কেন্দ্রিক রাজনীতি বা নির্দিষ্ট ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদের প্রসার সমাজে কেবল উগ্রতাই বাড়ায়নি, বরং প্রান্তিক গোষ্ঠী ও সংখ্যালঘুদের মাঝে তৈরি করেছে গভীর নিরাপত্তাহীনতা। অর্থনৈতিক নীতি কিংবা জাতীয় উন্নয়নের চটকদার বিজ্ঞাপনের পেছনে এই পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতিই মূলত তাদের শক্তির মূল আধার হিসেবে কাজ করে।
ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও রাস্তা সম্প্রসারণের নামে একের পর এক ঐতিহাসিক মসজিদ, সুফি দরগাহ ও ধর্মীয় স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এর পাশাপাশি ঈদুল আজহায় ধর্মীয় অনুশাসন অনুযায়ী পশু কোরবানি দিতে গিয়ে প্রশাসনিক নানা বিধিনিষেধ ও চরম সামাজিকভাবে হয়রানির মুখোমুখি হতে হচ্ছে দেশটির মুসলিম ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের। মানবাধিকার সংস্থা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ দলের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
মানবাধিকার ও গবেষণা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুসারে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে কয়েক ডজন (বা অন্তত ২০ থেকে ৩০টিরও বেশি) মসজিদ, মাদ্রাসা ও সুফি দরগাহ প্রশাসনিক উচ্ছেদ কিংবা বিরোধের জেরে ভেঙে ফেলা হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের ধর্মভিত্তিক রাজনীতির একটি বড় দিক হলো তাদের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যকার অন্ধ আনুগত্য বা প্রথাবদ্ধ আদর্শিক চর্চা। যেখানে আধুনিক গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে নেতৃত্বকে প্রশ্ন করা এবং স্বাধীন চিন্তার সুযোগ থাকা আবশ্যক, সেখানে দলটির রাজনীতিতে একক আদর্শিক সিদ্ধান্তের প্রতি প্রকাশ্য আনুগত্য প্রদর্শনই মুখ্য হয়ে ওঠে। এর ফলে রাজনৈতিক দলে চিন্তার স্বাধীনতা বা উদারনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির চর্চা সংকুচিত হয়ে পড়ে।
এই দুই দেশের দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার সবচেয়ে বড় ক্ষতিকর দিক হলো সমাজে বিভাজন সৃষ্টি। ধর্ম ও পরিচয়কে রাজনীতির প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করায় দক্ষিণ এশিয়ায় যে মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, তা অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং সামাজিক সম্প্রীতির জন্য এক বিশাল হুমকি। যখন রাজনৈতিক দলগুলো কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সুশাসনের মতো মৌলিক বিষয়গুলোর চেয়ে আবেগভিত্তিক রূপক ও এজেন্ডাকে সামনে আনে, তখন আখেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ জনগণই।
দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোর টেকসই উন্নয়ন ও স্থায়ী শান্তির জন্য পরিচয়ভিত্তিক ও আবেগকেন্দ্রিক রাজনীতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। রাজনীতি হতে হবে জনকল্যাণমুখী, পরমতসহিষ্ণু এবং প্রগতিশীল। ধর্মাশ্রয়ী পপুলিজম কিংবা অন্ধ অনুসরনের রাজনীতি কোনো দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎকে উজ্জ্বল করতে পারে না; বরং এটি সমাজকে আরও সংঘাত ও পিছিয়ে পড়ার দিকে ঠেলে দেয়।
