আজকের পত্রিকা ডেস্ক

রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামের কড়া সমালোচক ও দেশটির সাবেক সেনাসদস্য রবার্ট কাবেরার শিরশ্ছেদ করা মরদেহ প্রতিবেশী উগান্ডায় উদ্ধার করা হয়েছে। ৫০ বছর বয়সী কাবেরা একসময় রুয়ান্ডার সেনাবাহিনীতে সার্জেন্ট মেজর পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরে সরকারের সমালোচক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর হত্যাকাণ্ডে প্রবাসে থাকা রুয়ান্ডার ভিন্নমতাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) উগান্ডার পুলিশ মুখপাত্র কিতুমা রুসোকে জানান, রাজধানী কাম্পালার উপকণ্ঠে স্থানীয় বাসিন্দারা কাবেরার মরদেহ দেখতে পান। তবে তাঁর কাটা মাথাটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
নিজ দেশ রুয়ান্ডায় যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর কাবেরা পালিয়ে উগান্ডায় আশ্রয় নেন। যৌন নিপীড়নের অভিযোগটি অস্বীকার করে এটিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দাবি করেছিলেন তিনি।
কাবেরার পরিবার জানিয়েছে, মৃত্যুর আগে তিনি কাম্পালা থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে একটি নির্মাণস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। তাঁর স্ত্রী জিন দার্ক রুইগেমা উউইজিয়ে লিখিত বার্তায় জানান, স্বামীকে হারিয়ে তিনি এখন নিজের ও সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কিত। তিনি বলেন, ‘এটা ভীতিকর। আমি দিশেহারা বোধ করছি। আমার ও সন্তানদের কোনো নিরাপত্তা নেই।’
বিবিসি জানিয়েছে, সংগীতশিল্পী ও ইউটিউবার হিসেবেও কাবেরার পরিচিতি ছিল। ইউটিউবে তাঁর ১ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি সাবস্ক্রাইবার এবং ৮০০ টিরও বেশি ভিডিও ছিল। এসব ভিডিওর অনেকগুলোতেই কাগামে ও তাঁর প্রশাসনের সমালোচনা করা হতো।
কাবেরার হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বিরোধী দল রুয়ান্ডা ন্যাশনাল কংগ্রেস (আরএনসি) পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে সংগঠনটি প্রশ্ন তুলেছে, নির্বাসিত রুয়ান্ডানরা কোথায় নিরাপদ থাকতে পারবেন?
এর আগে ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে হোটেলকক্ষে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় রুয়ান্ডার সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান প্যাট্রিক কারেগেয়াকে। তিনি আরএনসি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছিলেন এবং কাগামের সঙ্গে বিরোধের পর ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় পালিয়ে যান।
কারেগেয়ার মৃত্যুর পর কাগামে সরকারবিরোধীদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। ২০১৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার কর্তৃপক্ষ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই রুয়ান্ডানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল।
এবার সংঘটিত কাবেরার হত্যাকাণ্ড নিয়ে রুয়ান্ডা সরকার এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।

