Published on
:
2 min read
যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ ওঠে আগেই। তাঁদের মধ্যে কথা চালাচালির বেশ কিছু মেলও সামনে এসেছিল। পুরী অবশ্য কোনও অভিযোগই অস্বীকার করেননি। বরং দাবি করেছিলেন, প্রতিনিধি দলের সঙ্গে গিয়েছিলেন। গত মঙ্গলবার এপস্টিন এবং পুরীর বেশ কিছু ভাইরাল হওয়ার পরে সেই নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ছবিগুলি প্রকাশ করেছিল আমেরিকার বিচার বিভাগ। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় সেগুলি ভাইরাল গত মঙ্গলবার। তার পর থেকেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। ওই সময়ে পুরীর বেশ কিছু মেলও প্রকাশ করেছিল আমেরিকার বিচার বিভাগ। তাতে পুরী এবং এপস্টিনের মধ্যে বিনিয়োগ নিয়ে কথাবার্তা হয়েছিল বলে দাবি। পুরী নিজেও দাবি করেছিলেন, তিনি আন্তর্জাতিক পিস ইনস্টিটিউট এবং ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অফ মাল্টিল্যাটারালিজ়মের প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে এপস্টিনের সঙ্গে কয়েক বার দেখা করেছিলেন।
কিন্তু পুরীর যে ছবি ভাইরাল হয়েছে, সেখানে এপস্টিনের সঙ্গে একাই দেখা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে। দাবি করা হচ্ছে, অন্তত ১০টি ছবিতে তাঁরা দু’জন ছিলেন। প্রতিনিধি দলের কোনও সদস্যকেই সেখানে দেখা যাচ্ছে না। ঘটনার পরেই পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনলাইন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ার। সেই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পুরীর দপ্তর থেকে তাঁদের জানানো হয়, ছবিটি প্রায় দশ বছর আগে তোলা। তাই তাঁর সঙ্গে আর কেউ ছিলেন কি না, তা আর মন্ত্রীর পক্ষে মনে করা সম্ভব নয়।
এপস্টিন সংক্রান্ত নথিতে যে সময়কালের কথা হয়েছে, সেই সময়ে কোনও সরকারি পদে ছিলেন না হরদীপ। ২০১৪-য় তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। আর মন্ত্রী হন ২০১৭-য়। আমেরিকান বিচার বিভাগের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এপস্টিনের সঙ্গে পুরীর ছবিগুলি তোলা হয়েছিল এই সময়কালের মধ্যে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দাবি করেছিলেন, তাঁর যোগাযোগ ছিল মূলত লিঙ্কডইনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যানের সঙ্গে। তিনি পুরীকে এপস্টিনের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, যৌন হেনস্থা, ধর্ষণ, নাবালিকা পাচার-সহ একাধিক মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন এপস্টিন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই নাবালিকা। কমবেশি ৪০ জন মহিলা তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন। মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। কারাদণ্ড হয় এপস্টিনের। তবে ২০১৯-এ জেলের মধ্যেই আত্মহত্যা করেন এপস্টিন। তাঁর সঙ্গে কাদের ওঠাবসা রয়েছে, সেই সম্পর্কে আদালতকে বিস্তারিত জানিয়েছিলেন ভার্জিনিয়া জিফ্রে নামে এক মহিলা। ওই সব নথিপত্রে বিল ক্লিন্টন থেকে মাইকেল জ্যাকসন, ডোনাল্ড ট্রাম্প-সহ বিশ্বের তাবড় ব্যক্তিদের নাম রয়েছে বলে শোনা যায়। তবে তার সত্যি-মিথ্যা যাচাই হয়নি এখনও।
