আজকাল ওয়েবডেস্ক: কারাবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদ অভিমুখে সমর্থকদের সম্ভাব্য লং মার্চের আগেই বড়সড় রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিল পাকিস্তান। রবিবার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করলেন দেশটির রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি। এর পাশাপাশি ভেঙে দেওয়া হয়েছে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পরিচালিত প্রাদেশিক সরকারও। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মন্ত্রিসভার সুপারিশ মেনেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আফগান সীমান্তবর্তী সংবেদনশীল প্রদেশটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন কার্যত কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিস্বরূপ রাজ্যপালের হাতে চলে গেল।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এই জরুরি অবস্থা জারির পেছনে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে প্রাদেশিক সরকারের ‘ইচ্ছাকৃত নিষ্ক্রিয়তা’কে প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে। সরকারের দাবি, ওই অঞ্চলে পাকিস্তানি তালিবানের (টিটিপি) হামলা বাড়লেও স্থানীয় প্রশাসন তা রুখতে যথাযথ পদক্ষেপ করেনি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য ছিল পিটিআই-এর প্রস্তাবিত ইসলামাবাদ অভিযান ভেস্তে দেওয়া। মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি যখন সমর্থকদের নিয়ে রাজধানী ঘেরাওয়ের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই তাঁকে ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের আটক করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রদেশ জুড়ে ও রাজধানী ইসলামাবাদে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত সেনা ও পুলিশ। শহরের সংযোগকারী পথগুলিতে গত মাস থেকেই বড় বড় কন্টেইনার ফেলে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে, যার জেরে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন সাধারণ নিত্যযাত্রীরা।
প্রাদেশিক সরকারের এই ক্ষমতাচ্যুতিকে ‘ছদ্মবেশী অভ্যুত্থান’ বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইমরান খানের দল। দলের মুখপাত্র জুলফিকার বুখারী দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর গোটা পাকিস্তানে একমাত্র খাইবার পাখতুনখোয়াতেই জনগণের প্রকৃত রায় প্রতিফলিত হয়েছিল, এবং কেন্দ্রীয় সরকারের এই আগ্রাসনে গণতন্ত্রের শেষ চিহ্নটুকুও মুছে গেল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি সরকারের সঙ্গে হওয়া আলোচনা কেবল প্রহসন ছিল; দলের পক্ষ থেকে ইমরান খানের মৌলিক মানবাধিকার ও হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি তোলা হলেও কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরা সে বিষয়ে কোনও আগ্রহ দেখাননি।
২০২৩ সাল থেকে জেলে বন্দি থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানের রাজনীতিতে ইমরান খানের জনপ্রিয়তা এখনও অত্যন্ত জোরালো। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পালাবদলে খাইবার পাখতুনখোয়া হাতছাড়া হওয়া পিটিআইয়ের জন্য বড় ধাক্কা, কারণ এটিই ছিল তাদের হাতে থাকা একমাত্র প্রদেশ। রাজ্যপাল ফয়জল করিম কুন্ডির হাতে প্রশাসনিক ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর এলাকাটি আপাতত শান্ত থাকলেও, কারাবন্দি ইমরানের অনুগামীদের ক্ষোভ ও আফগান সীমান্তবর্তী অঞ্চলে তালিবানি তৎপরতা বৃদ্ধি পাকিস্তানকে এক নতুন অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
