বিশ্বজুড়ে জ্বালানির উচ্চমূল্য ও আর্কটিক অঞ্চলে কৌশলগত আধিপত্যের প্রতিযোগিতার মধ্যে গ্রিনল্যান্ডের বিপুল তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদে নজর দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বীপটিতে ব্যাপক অনুসন্ধান শুরুর প্রস্তুতি চলছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তার ভাষ্য, গ্রিনল্যান্ডে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সহজে উত্তোলনযোগ্য তেলের মজুত থাকতে পারে। তবে অনুসন্ধান পরিকল্পনার বিস্তারিত, সম্ভাব্য মজুতের পরিমাণ কিংবা কাজ শুরুর নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি ট্রাম্প।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমাদের নতুন ও সুন্দর গ্রিনল্যান্ডে ব্যাপক তেল, গ্যাস ও খনিজ অনুসন্ধান শুরু হওয়ার প্রস্তুতি চলছে।’
গ্রিনল্যান্ডে বিপুল তেলের মজুত থাকার বিষয়ে কিছু বিশেষজ্ঞের মতামতের কথা উল্লেখ করলেও নিজের দাবির পক্ষে কোনো পরিসংখ্যান বা নির্দিষ্ট গবেষণার তথ্য দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের সাত মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম উঁচু অবস্থানে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ডের সম্ভাব্য জ্বালানি সম্পদ নিয়ে ট্রাম্পের এই ঘোষণা নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। তবে অনুসন্ধান কার্যক্রমের বাস্তব অগ্রগতি কিংবা তা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে কী প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও গ্রিনল্যান্ডকে গুরুত্বপূর্ণ বলে তুলে ধরেছেন ট্রাম্প। তার দাবি, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ওপর যেকোনো হামলা প্রতিহত করার ক্ষেত্রে দ্বীপটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভবিষ্যতে যেকোনো হামলা গ্রিনল্যান্ডের ওপর দিয়ে আসতে হবে। সেখানে মার্কিন প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভবিষ্যতে তৈরি হতে পারে এমন অন্যান্য অস্ত্রও প্রতিহত করতে সক্ষম হবে বলে দাবি করেন তিনি।
গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রকে এমন কৌশলগত অবস্থান, পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরক্ষার সুবিধা দেবে, যা বিশ্বের অন্য কোথাও পাওয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত গ্রিনল্যান্ড ভৌগোলিক অবস্থান, সম্ভাব্য প্রাকৃতিক সম্পদ এবং সামরিক গুরুত্বের কারণে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ।
