Published on
:
2 min read
এই সময়: ককরোচ বাহিনীকে আর হালকা চালে নিচ্ছে না বিজেপি। এ বার দেশজুড়ে তাদের ‘মুখোশ’ খুলতে প্রচারে নামছে পদ্ম শিবির। দলীয়স্তরে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী ৫ নভেম্বর পর্যন্ত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ কর্মসূচি পালন করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ব্যাখ্যা, নীতিন নবীন পার্টির সভাপতি হওয়ার পরে এটাই বিজেপির সব থেকে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি হতে চলেছে।
নিট পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলনে নেমেছিল ককরোচ জনতা পার্টি। তাতে সামিল হয়েছিলেন জে়নজি–রা। আন্দোলনের চাপে ধর্মেন্দ্রকে শিক্ষামন্ত্রীর চেয়ারও ছাড়তে হয়েছিল। এ বার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচরা আন্দোলন শুরু করেছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ‘সার’–এর নামে ভোটার তালিকা থেকে বৈধ ভোটারের নাম বাদ দিয়ে বিজেপির সুবিধা করে দিয়েছেন জ্ঞানেশ।
বিজেপির মতে, আগামী লোকসভা ভোট পর্যন্ত নানা ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারকে চাপে ফেলতে ‘অরাজকতা’ তৈরির চেষ্টা হবে। তাই এখন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে চাইছে বিজেপি। পদ্ম শিবির সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ কর্মসূচির পাশাপাশি, ‘ভারত কি বাংলাদেশ, নেপালের পথে হাঁটবে?’ এই প্রশ্নও আগামী এক সপ্তাহ বিজেপির শীর্ষ নেতারা সাংবাদিক বৈঠক থেকে তুলবেন।
কী ভাবে দেশে নৈরাজ্য তৈরির চেষ্টা চলছে, এ বিষয়ে বিজেপির আইটি সেলকে ব্যাপক প্রচার চালাতে বলা হয়েছে। শুক্রবার সল্টলেকে রাজ্য বিজেপির দপ্তরে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসলের উপস্থিতিতে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। সেখানে রাজ্য পদাধিকারীদের মধ্যে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ কর্মসূচির দায়িত্ব বণ্টন করেন শমীকরা। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যে এই কর্মসূচি নিয়ে অত্যন্ত ‘সিরিয়াস’ সেই বার্তা দলের সর্বস্তরের নেতা–কর্মীদের কাছে পৌঁছে দিতে চাইছেন বিজেপি নেতৃত্ব।
সূত্রের খবর, ওই বৈঠক শেষে জেলার নেতাদের জানানো হয়েছে, নৈরাজ্য তৈরির চেষ্টাকে ভেস্তে দিতে গোটা দেশের মতো এ রাজ্যের প্রতিটি জেলাতে মিছিল করা হবে। প্রতিটি মিছিলে দশ হাজার মানুষ জমায়েতের টার্গেট নেওয়া হয়েছে। রাজ্য বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথায়, ‘প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্র এলাকায় ২০০ জন বিশিষ্ট মানুষের বাড়িতে যাবেন পার্টির নেতারা। তাঁদের সঙ্গে কথা বলবেন। কী ভাবে দেশে নৈরাজ্য তৈরির চেষ্টা চলছে, তা নিয়ে ঘরোয়া আলোচনাও চলবে। যুব এবং ছাত্রদের পাশে পাওয়ার জন্য রাজ্যের কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতেও সেমিনারের আয়োজন করা হবে।’
২০২৭–এর শুরুতেই উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট, উত্তরাখণ্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলিতে বিধানসভা ভোট। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপিকে চাপে রাখতে বিরোধীরা চাইবে আগামীতে আন্দোলনের ঝাঁজ আরও বাড়াতে। বিজেপির লক্ষ্য, বছর ঘোরার আগেই ককরোচ এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলির আন্দোলনে জল ঢেলে দেওয়া। দলের নতুন সভাপতি নীতিন নবীনের কাছে সেটাই সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে নীতিনের নেতৃত্বে বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ কর্মসূচি দেশে কেমন সাড়া ফেলে আপাতত সে দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
