নিজস্ব প্রতিবেদক · ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৫২ পূর্বাহ্ন
সিলেট নগরের সম্প্রসারিত এলাকাকে আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব করে গড়ে তুলতে উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। নতুন অন্তর্ভুক্ত ৩৭, ৩৮ ও ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ১১০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ চলছে। এসব এলাকায় আগে ৬ থেকে ৮ ফুট প্রশস্ত সড়ক থাকলেও এখন ড্রেনসহ অন্তত ২০ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। সড়ক, নালা ও সড়কবাতি স্থাপনের মাধ্যমে নতুন ওয়ার্ডগুলোর বাসিন্দাদের নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, সম্প্রসারিত এলাকার বাসিন্দারাও নগরের অন্য এলাকার মানুষের মতো সব ধরনের নাগরিক সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখেন। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশন কাজ করছে।
গতকাল বুধবার (১৪ অক্টোবর) তেমুখী এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে ৩৭, ৩৮ ও ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ওয়ার্ডগুলোর উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও টেকসইকরণ এবং হোল্ডিং ট্যাক্স চালুসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করতে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগে এসব এলাকা ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে ছিল। তখন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সর্বোচ্চ ৬ থেকে ৮ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করেছে। এখন নগরের অংশ হওয়ায় এসব এলাকায় ড্রেনসহ কমপক্ষে ২০ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সড়কগুলো আরসিসি দিয়ে এমনভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে, যাতে দীর্ঘদিন যানবাহন চলাচলের উপযোগী থাকে। নতুন ওয়ার্ডগুলোতে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের পাশাপাশি সড়কবাতি স্থাপনের কাজও চলছে। এরই মধ্যে অনেক কাজ শেষ হয়েছে। কিছু কাজ চলমান রয়েছে, আর কিছু কাজ দরপত্র প্রক্রিয়ায় আছে। ধারাবাহিকভাবে এসব উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
সিসিক প্রশাসক বলেন, দীর্ঘদিন ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। পরে এর সঙ্গে আরও ১৫টি ওয়ার্ড যুক্ত হয়েছে। এতে নগরের পরিধি ও নাগরিক সেবা দেওয়ার দায়িত্ব বেড়েছে। কিন্তু ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়লেও সিটি করপোরেশনের নিজস্ব আয় সে অনুযায়ী বাড়েনি।
তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের নিজস্ব আয় থেকেই উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন ও নাগরিক সেবা পরিচালনা করতে হয়। তাই নগরের উন্নয়ন অব্যাহত রাখা এবং সেবা সম্প্রসারণের জন্য নিজস্ব আয় বাড়ানো প্রয়োজন। এ জন্য নগরবাসীকে নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
সিসিকের সচিব মো. আশিক নূরের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম, সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি শহিদ আহমদ এবং সাবেক কাউন্সিলর আলতাফ হোসেন সুমন ও ফাতেমা বেগম।
সভায় ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রাজু মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক কাহির মিয়া, ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক শাহজাহান মিয়া ও সদস্যসচিব রিয়াজ আহমদ সুমন, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এনামুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ফখর উদ্দিনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাস, সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সভায় অংশ নেন।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
