ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেছেন, বিগত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে ফলাফল ইঞ্জিয়ারিংয়ের মাধ্যমে দাঁড়িপাল্লাকে পরাজিত করা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেছেন, বিগত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে ফলাফল ইঞ্জিয়ারিংয়ের মাধ্যমে দাঁড়িপাল্লাকে পরাজিত করা হয়েছে। এবারের উপনির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে জনগণের বিজয় বুঝে নিতে হবে। তিনি বলেন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী ও দলীয়করণের প্রতিবাদে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জনগণ আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয় বুঝে নেওয়ার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। জনতার ঐক্য দেখে নিজেদের নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে দাঁড়িপাল্লার প্রচারণা বন্ধের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিন্তু কোনো বাধা, হুমকি জনগণকে দমাতে পারবে না। মাদক-সন্ত্রাস, চাঁদাবাজদের গডফাদারের পরাজয় ঠেকানো যাবে না।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ের ঢোলার হাট ইউনিয়নের বানিয়াপাড়ায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচন মাদক, সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে।
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, দুর্নীতি ও দলীয়করণের কারণেই কৃষকেরা সার পাচ্ছে না। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের মাত্র ৭ মাসের মাথায় দেশের প্রতিটি সেক্টরে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। যেদিকে হাত দেবেন কেবল নাই আর নাই! গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই, তেল নেই, সার নেই। কৃষকেরা সারের জন্য রাজপথে বিএনপির শাসনামলে জীবন দিতে হয়েছে। এখনো সারের জন্য কৃষকদের আন্দোলন করতে হচ্ছে। কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদনের জন্য সার ও কীটনাশক যদি সরকার সরবরাহ করতে না পারে তবে দেশে কী পরিমাণ খাদ্য সংকট পড়বে তা বিএনপি সরকার চিন্তাও করে না। কৃষি পণ্যের সুষ্ঠু বন্টন ছাড়া কৃষকের উন্নতি সম্ভব নয়। কিন্তু তাদের দুর্নীতি ও দলীয়করণের কারণে জনগণকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। একজন ব্যবসায়ী যদি সারের ডিলারশিপের জন্য ৩০-৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয় তবে ওই ব্যবসায়ী সার সিন্ডিকেট করবেই। সরকার একদিকে দুর্নীতির মাধ্যমে ডিলারশিপ দিচ্ছে অন্যদিকে বেছে-বেছে নিজেদের দলীয় এমপিদের আত্মীয়-স্বজনকে সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছে। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এক এমপির স্ত্রী, ভাই, ছেলে ও পুত্রবধূকে সারের ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে! ঠাকুরগাঁওয়ে যদি সরকার দলীয় ব্যক্তি এমপি নির্বাচিত হয় তবে কৃষকেরা সার ও কীটনাশক পাবে না। সব দলীয়করণ আর আত্মীয়করণের মাধ্যমে পাচার হয়ে যাবে। তবে দাঁড়িপাল্লা মার্কা নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো দুর্নীতি, অনিয়ম, আত্মীয়করণ ও দলীয়করণ চলবে না প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি স্থানীয়দের আগামী ২৯ অক্টোবর দলমত, ধর্মবর্ণ, জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয় বোঝে নেওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে দুপুরে, ভুল্লী উপজেলার শুখান পুকুরী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান আলোচক জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, সারাদেশে জামায়াতে ইসলামীর ৬৮ জন নির্বাচিত এমপি রয়েছেন। যাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ভিন্ন ধর্মাবলম্বীর লোকজন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সমান সুযোগ সুবিধা ও নাগরিক অধিকার এবং মর্যাদা লাভ করছেন। কাউকে বোরকা পড়তে বাধ্য করা হচ্ছে কিংবা হিন্দুদের বাড়িঘর জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী দখল দিয়েছে এমন কোনো সংবাদ কেউ শুনেছে কি-না প্রশ্ন করলে উপস্থিত শতশত হিন্দু ধর্মের নারী-পুরুষ একবাক্যে জবাব দেন ‘না’।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, জামায়াতে ইসলামী নয় বরং যারা হিন্দুদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছিল এবং জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালিয়েছে তারাই হিন্দুদের সম্পদ দখল দিয়েছে। বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে, হিন্দুদের ওপর জুলুম করেছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে তারা কখনোই মূল্যায়ন করেনি বরং তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে সংখ্যালঘু হিসেবে আখ্যায়িত করেছে! যা জাতির জন্য লজ্জার। জামায়াতে ইসলামী জাতিগত বিভাজন ও ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাতে বিশ্বাসী নয়। জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে সমাজের প্রতিটি মানুষ রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে এক এবং অভিন্ন। দলমত, ধর্মবর্ণ, জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু ভোট দিলেই নাগরিকের দায়িত্ব শেষ নয়। নিজের ভোট যাতে লুট হতে না পারে, কেউ যেন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ফলাফল পাল্টে দিতে না পারে সেদিকেও খেয়াল রাখতে তিনি স্থানীয়দের প্রতি অনুরোধ জানান।
শুখান পুকুরী ইউনিয়ন আমীর মাওলানা আব্দুস সামাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ধর্ম নারায়ন মাষ্টার, অতুল চন্দ্র অধিকারী, মানিক রায়, অখিল রায় প্রমুখ। বক্তরা সকলেই বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতাকর্মী হিন্দুদের ওপর জুলুম করেনি। বরং হিন্দুদের বিপদ-আপদে মানবিক সহায়তা করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ।
সভায় জামায়াতে ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি আলমগীর হোসেনসহ স্থানীয় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
