বেড়াতে গিয়ে অসুস্থ হলে ঘোরাটাই মাটি হয়ে যায়। তাই ঘুরতে যাওয়ার আগে কারা কারা ঘুরতে যাচ্ছেন, কারও ইতিমধ্যেই কোনও রোগ রয়েছে কি না, কোথায় বেড়াতে যাচ্ছেন... এই দিকগুলো বিবেচনা করে কিছু ওষুধও সঙ্গে রাখুন। তা হলে নিশ্চিন্তে ঘুরতে পারবেন।
যে ওষুধ চলছে
ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলের রোগীদের নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়। তাই এই ধরনের ওষুধ কত দিন ঘুরতে যাচ্ছেন, সেই ক’দিনের জন্য গুনে নিয়ে যান। দরকার হলে বেশি নিয়ে যান, কম নেবেন না। হাঁপানির রোগীরা ইনহেলার ও ওষুধ ঠিকমতো সঙ্গে রাখুন। ছোট বাচ্চাদের সর্দিকাশির সমস্যায় নেবুলাইজ়ার দেওয়ার ইতিহাস থাকলে নেবুলাইজ়ারও সঙ্গে রাখতে পারেন। এ ছাড়া হৃদ্রোগ, কিডনির অসুখ বা অন্যান্য বড় কোনও রোগ থাকলে, তার ওষুধ তো সঙ্গে রাখতেই হবে।
মোশন সিকনেসের জন্য
অনেকেরই গাড়িতে উঠলে বমি করার প্রবণতা থাকে। অনেকে আবার সমতলের রাস্তায় ঠিক থাকেন, কিন্তু পাহাড়ের পাকদণ্ডীতে গাড়ি ঘুরলেই বমি করতে শুরু করেন। মোশন সিকনেসের সমস্যা থাকলে ডাইমেনহাইড্রিনেট জাতীয় ওষুধ সঙ্গে রাখুন। দরকার হলে আগে কোনও ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ নিয়ে নিন। আর খেয়াল রাখবেন, গাড়িতে ওঠার ঠিক আগে ভারী খাবার খাবেন না। সঙ্গে ক্যান্ডি জাতীয় লজেন্স রাখতে পারেন। এতে বমি ভাব কমবে। একটানা অনেকটা রাস্তা না গিয়ে, মাঝেমাঝে একটু ব্রেক নিয়ে গেলেও অনেকটাই সুবিধে পাবেন।
উচ্চতার জন্য শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা
গত কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে, সান্দাকফু গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন কিছু পর্যটক। এর কারণ অল্টিটিউড সিকনেস। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে একবারে অনেকটা উচ্চতায় উঠে গেলে শরীরের সেখানে মানিয়ে নিতে অসুবিধে হয়। তার ফলে শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা... ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। একবারে অনেকটা উচ্চতায় না উঠে অল্প অল্প করে শরীরকে অ্যাক্লাইমাটাইজ় করতে করতে উঠুন। এতে শরীরে কোনও সমস্যা দেখা দেবে না। আর অল্টিটিউড সিকনেস দেখা দিলে দেরি না করে পাহাড় থেকে নীচে নেমে আসতে হবে। বেশি হাঁটাচলা করা চলবে না। প্রয়োজনে পোর্টেবল অক্সিজেন নিতে হবে। আর শরীর যাতে ডিহাইড্রেটেড না হয়ে যায়, পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খেতে হবে। দরকারে অ্যাসিটোজোলামাইড জাতীয় ওষুধ খেতে পারেন, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে।
অ্যালার্জির জন্য
অনেকের অনেক কিছুতেই অ্যালার্জি থাকে। যাঁদের অ্যালার্জির প্রবণতা রয়েছে, ঘুরতে গিয়ে কোনও নতুন জিনিসেও অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে, যা আগে ছিল না। তাই তাঁদের একটু সাবধান হতে হবে। বিশেষ করে সমুদ্রসৈকতে। অনেকেরই দেখা যায়, সমুদ্রসৈকতের নোনা বালিতে অ্যালার্জি হয়। তা থেকে শ্বাসকষ্টের মতো ঘটনা, র্যাশ ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। আবার নোনা জলে স্নান করার ফলেও স্কিনে অ্যালার্জি হতে পারে। তাই সে বিষয়ে সাবধান। দরকার মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খেতে হবে। সি-ফুড খাওয়ার ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে। চিংড়ি, কাঁকড়ায় অনেকের অ্যালার্জি থাকে, আবার নতুন করেও তৈরি হতে পারে। তাই যা-ই খাবেন বা যেখানে যাবেন, সেটা নিজের শরীর বুঝে।
পেটের সমস্যায়
বেড়াতে গিয়ে হজমের সমস্যাও হতে পারে। যে নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়ার অভ্যেস, বেড়াতে গেলে সেটা অনেক ক্ষেত্রেই মানা সম্ভব হয় না। তাই হজম, অ্যাসিডিটি কমানোর ওষুধ সঙ্গে রাখুন। অনেক সময়ে স্থানীয় জল বা কোনও খাবারে ডায়রিয়া বা পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সঙ্গে ইলেক্ট্রোলাইটের স্যাশে রাখবেন। পেট খারাপ হলে যাতে ডিহাইড্রেশন না হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। ইলেক্ট্রোলাইটের জল খেতে পারেন। আর প্রোবায়োটিক সঙ্গে রাখুন। প্রোবায়োটিক স্যাশেও পাওয়া যায়। প্রোবায়োটিক অনেক ক্ষেত্রেই পেটের সমস্যা কমিয়ে দেয়। তবে একান্তই যদি সমস্যা না কমে, তা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অ্যান্টিবায়োটিকস শুরু করবেন।
আর একটা ছোট বাক্সে অ্যান্টিসেপটিক মলম, ব্যান্ডেজ, অ্যান্টিসেপ্টিক ও ডিজ়ইনফেকট্যান্ট লিকুইড রাখুন। ঘুরতে গিয়ে পথচলতি ঠিকঠাক টয়লেট পাওয়া একটা সমস্যা। সে ক্ষেত্রে ডিজ়ইনফেকট্যান্ট লিকুইড ছড়িয়ে বাথরুম ব্যবহার করুন। দরকারে মলি শিট রাখুন। বাচ্চাদের জন্য কাজে দেবে।
