October 24, 2026,
স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান আওয়ামীলীগ প্রসঙ্গে বলেছেন এখন সরকার দল চায় আমরা অতীতের ইয়েসমেন সরকারি দলের মতো সবকিছু বলি। আবার কিছু লোকের মাইন্ডসেট হলো অতীতের মতো আমরাও ফাইল চুরাচুরি করি, গালিগালাজ করি, সংসদের ভিতরকে উত্তপ্ত করে তুলি এবং একসময় সংসদকে অচল করে ফেলি। এইটাও একদল চায়। আমরা এর কোনোটাই নাই। আমরা এই দুইটার কোনোটা-ই করবোনা। অনেকেই বলতে পারেন এতদ্রুত আমরা আন্দোলনে কেন গেলাম। আমরা বলছি গণভোটের রায় মেনেনিলে লংমার্চ করতাম না।
জামায়াত আমীর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আওয়ামীলীগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী এভাবে পাবলিকলি বলতে পারেন না। উনি খোলাসা করে বলুক আওয়ামীলীগের সাথে আমরা আছি। আমরা উনার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী প্রমাণ করুক কোথায় কখন, কার সাথে, কিভাবে? গোয়েন্দা তথ্যের রেফারেন্স দিয়ে তিনি এভাবে কথা বলতে পারেন না। তিনি বলতে পারতেন যে আমার কাছে প্রমাণ আছে। আমরা সেই প্রমাণের অপেক্ষায় আছি। দেখি সাহস থাকলে আমাদের চ্যালেঞ্জ উনি গ্রহণ করুক।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি বলছে আওয়ামী লীগ আমাদের দুশমন নন, আমাদেরকে আপনারা ভোট দিয়ে বিজয়ী করুন, আপনাদের সবগুলো অফিস খুলে দেওয়া হবে এবং সবগুলো মামলা প্রত্যাহার করা হবে, অতি সম্প্রতি বরকতউল্লাহ বুলু সাহেব কী বললেন? নাটোরের এমপি সাহেব কী বললেন? এইটাতো প্রতিদিনের ঘটনা।
পুলিশের কর্মরত একজন ডিআইজির মালিকানাধীন বাড়ি থেকে এই কয়দিন আগে কি উদ্ধার করা হয়েছে আপনারা তার সাক্ষী। যে বেড়া আমাদেরকে রক্ষা করবে স্বয়ং বেড়াই যদি আমাদের সমস্ত ফসলকে বিনষ্ট করে দেয় তাহলে হু উইল প্রটেক্ট আস? এই জাতিকে দেখে রাখবে কে? এইজন্য আমি এটা বলছি না যে পুলিশে সকল সদস্য তারা বোধহয় এই ধরনের কাজ করেন, না তাদের মধ্যে প্রচুর দেশপ্রেমিক ভালো মানুষ আছেন।
বিরোধী দলীয় নেতা আরও বলেন, “স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এখনও ভালো লক্ষণ দেখছি না। বিএনপির একজন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাডারকে নির্বাচন কমিশনের এডিশনাল সেক্রেটারী হিসাবে বসানো হয়েছে। একজন দলীয় লোককে কেন আনতে হবে এখানে এ প্রশ্ন জনগণের । জাতীয় সংসদের চীফ হুইফ যিনি জাতীয় সংসদের শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকেন তিনি তার এলাকায় গিয়ে বলেছেন, যে জায়গায় বিএনপি’র প্রার্থী বিজয়ী হবে না সেখানে কোনো সরকারি বরদ্দ দেয়া হবে না। এটা লজ্জার বিষয়। তার মানে আগ থেকে জনগণকে ভয় দেখানো হচ্ছে। এরকম ভয়ভীতি এবং দলভীতির মধ্য দিয়ে নির্বাচন হলে নির্বাচন সুষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে হ্যাঁ নির্বাচনের আগে আমরা অবশ্যই রাস্তা পরিষ্কার করার চেষ্টা করব। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত আমরা চাইব। যখন সেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের নিশ্চিয়তা পাব তখন নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করব। আমরা কারো স্কীপ গুড হতে চাই না। আমরা জনগণের অধিকার নিয়ে লড়তে চাই। আমরা চাই জনগণ যাকে ভোট দিয়ে পছন্দ করবে সেই ক্ষমতায় যাবে।
তিনি শনিবার ২৪ অক্টোবর সকালে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় কালে এ কথা বলেন।
জামায়াত আমীর স্বররাষ্টমন্ত্রীর সমালোচনা করে আরও বলেন আইনশৃঙ্গলার অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। আমরা সৌভাগ্যক্রমে একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পেয়েছি। তিনি সকল মন্ত্রণালয়ে সার্ভিস দেন। তার প্রাইম ডিউটি হচ্ছে নিজের মন্ত্রণালয় লোক আফটার করা। না তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করলেন, না তিনি সমাজে শৃঙ্খলা ফিরাতে পারলেন। রাষ্ট্রের আইন শৃঙ্খলার দৃশ্যমান কোন উন্নতি নেই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যারাই পালন করেন এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বলেন, আইনশৃঙ্খলা আগের চেয়ে ভালো। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এই আগের চেয়ে ভালোর মাপকাঠি কি তা আজ পর্যন্ত বুঝতে পারলাম না।
জামায়াত আমীর বলেন, সংবাদপত্র সমাজের আয়না। তাদের আয়নায় সমাজের দোষ ত্রুটি ধরা পড়ে। স্বাধীনতার পর সময়ে ১৯৭৫ সালে সংবাদ মাধ্যমের উপর আক্রমণ হয়েছিল। রাজনীতির উপর আঘাত এসেছিল। বহুদলীয় গণতন্ত্র বাদ দিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েমের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সবগুলো সংবাদ মাধ্যম সরকার তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রনে নিয়েছিল। ৪টি সংবাদ মাধ্যম ছাড়া আর কোনো সংবাদ মাধ্যমের অস্তিত্ব রাখা হয়নি।
জেলা আমীর ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শাহেদ আলীর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মোঃ ইয়ামীর আলীর সঞ্চালনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, হবিগঞ্জের জেলা আমীর মাওলানা মখলিছুর রহমান চৌধুরীসহ অন্যন্যরা।
পরে তিনি জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে মৌলভীবাজার জেলার ৫টি পৌরসভা, ৬৭টি ইউনিয়ন ও ৬০৩টি ওয়ার্ডের প্রতিনিধির পাশাপাশি, সকল রুকন ও স্থানীয় নির্বাচনের প্রার্থীগণ হওয়ার দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
শেষে দুপুর ২টায় ২০২৭-২০২৮ সালের জন্য মৌলভীবাজার জেলা আমীর নির্বাচনের ভোট গ্রহণ ও রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
জামায়াত আমীর সকাল ৮টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগরী আমীর মোঃ ফখরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার জেলা আমীর ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শাহেদ আলী, সিলেট মহানগরী নায়েবে আমীর ডঃ নুরুল ইসলাম বাবুল, সিলেট জেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, সিলেট মহানগরী সেক্রেটারি মোঃ শাহজাহান আলী, সিলেট জেলা সেক্রেটারি মোঃ জয়নাল আবেদীন, মৌলভীবাজার জেলা এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আজিজ আহমদ কিবরিয়া, ছাত্রশিবিরের মৌলভী বাজার শহর সভাপতি কাজী দাইয়ান আহমদ।
পরে একই ভাবে জামায়াত আমীরকে সকাল ৯ টায় মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে এসে পৌঁছলে অভ্যর্থনা জানানো হয়। পুলিশের একটি চৌকস দল আমীরে জামায়াতকে গার্ড ওর্নার প্রদান করেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডাঃ শফিকুর রহমান জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ জেলা জেলা শহরে এটাই প্রথম সফর। আমীরে জামায়াতের সফর ঘিরে স্থানীয় নেতা কর্মীর মধ্যে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয়।
সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

