নিউ জিল্যান্ড একাদশের বিপক্ষে লিংকনে অনুষ্ঠিত প্রথম অনানুষ্ঠানিক টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ভারত। স্বাগতিকদের ২০৪ রানের পাহাড়সম প্রথম ইনিংস লিডের জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ভারত। তবে দেবদূত পাডিক্কাল ও সাই সুদর্শনের অবিচ্ছিন্ন ৯৬ রানের দুর্দান্ত জুটিতে ভর করে দিনশেষে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সফরকারীরা।
দ্বিতীয় ইনিংসে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে ব্যাট করতে নামা ভারত ইনিংসের প্রথম ত্রিশ মিনিটেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে বিপদে পড়ে। চতুর্থ ওভারের শুরুতে সিমন কিনিনের শর্ট বলে আউট হন ইয়াশস্বী জয়সওয়াল। ঠিক পরের ওভারেই হিট-উইকেট হয়ে সাজঘরে ফেরেন লোকেশ রাহুল। উইকেটে বল গড়ানো রোধ করতে ব্যাট বাড়াতে গিয়ে নিজেরই অফ স্টাম্প ভেঙে বসেন তিনি।
আগামী মাসের টেস্ট সিরিজের আগে তিন নম্বর পজিশনের জন্য লড়াই করা সুদর্শন ও পাডিক্কাল এরপর প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। প্রথম দিনের ব্যাটিং ধসের পুনরাবৃত্তি রোধ করে দলকে প্রাথমিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেন তারা। ইনিংসের শুরুতে জীবন পাওয়া পাডিক্কাল অনবদ্য এক হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন। দিন শেষের সময় পর্যন্ত সাই সুদর্শন ৩৯ রানে এবং পাডিক্কাল ৫৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। ৮ উইকেট হাতে রেখে ভারত এখনো ৯৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে এবং পরাজয় এড়াতে তাদের সামনে রয়েছে দীর্ঘ পথ।
এর আগে ১৩৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দিন শুরু করা নিউ জিল্যান্ড একাদশ তাদের প্রথম ইনিংসে ৩১৭ রান সংগ্রহ করে। আগের দিন ৩৭ রান করা কার্টিস হিফি আর মাত্র ৭ রান যোগ করে হাফ সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত হন। অপর অপরাজিত ব্যাটার ম্যাথু বয়েলও দ্রুত আউট হন। তবে মিডল অর্ডার ও বোলারদের দৃঢ়তায় স্বাগতিকরা তিন শ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায়।
মিচেল হে ও ডিন ফক্সক্রফট মাত্র ১১ ওভারে ৪৩ রান যোগ করে দলের রান দুই শ পার করেন। ফক্সক্রফট দারুণ এক ফিফটি তুলে নেন এবং ক্রিস্টিয়ান ক্লার্কের সাথে অষ্টম উইকেটে আরও ৩৩ রান যোগ করেন। এরপর ক্লার্ক নবম উইকেটে ফ্রেজার শিটের সাথে ৪৮ বলে ৩৪ রান এবং দশম উইকেটে জাক গিবসনের সাথে ৩২ রান যোগ করে নিজের হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। এই দৃঢ়তাপূর্ণ ব্যাটিংয়ের সুবাদে নিউ জিল্যান্ড একাদশ ২০৪ রানের বড় লিড অর্জন করে, যা ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে। ভারতের পক্ষে আউবিক নবী ও অংশুল কম্বোজ উভয়েই তিনটি করে উইকেট শিকার করেন।
