বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে (বিওএ) পদত্যাগের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। গত দুই দিনে ছয় কর্মকর্তার পদত্যাগের পর আজও সরে দাঁড়িয়েছেন সংস্থাটির সদস্য ফারহাদ জেসমিন লিটি ও সহ-সভাপতি মেজর জেনারেল নাঈম আশফাক চৌধুরী (অব.)। এ নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে নির্বাহী কমিটির আট সদস্য পদত্যাগ করলেন।
নাঈম আশফাক চৌধুরী বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি। গত ১৮ জুলাই গঠিত অ্যাডহক কমিটিতে তিনি স্থান না পেলেও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচিত সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব বেড়ে যাওয়ায় তিনি বিওএ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে নাঈম আশফাক বলেন, ‘এই মাসের শুরুতে আমি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে (বিইউপি) প্রো-ভিসি হিসেবে যোগদান করেছি। এজন্য আমার পক্ষে অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে সময় দেওয়া ও কাজ করা কঠিন। তাই আজ পদত্যাগপত্র দিয়েছি।’
অন্যদিকে, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন বিওএর সদস্য ফারহাদ জেসমিন লিটি।
আজ দুপুরে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের ভবনে মহাসচিবের কক্ষে নির্বাহী কমিটির দশজনের বেশি কর্মকর্তা বৈঠকে বসেন। সেখানে হাসানুজ্জামান খান বাবলু ছাড়া উপস্থিত অন্যদের কেউই বর্তমানে কোনো ফেডারেশনের কমিটিতে নেই বলে জানা গেছে।
দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা আলোচনায় সংস্থাটির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, ধারাবাহিক পদত্যাগ এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বিওএর মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা বলেন, ‘গত দুদিনে ছয়জন পদত্যাগ করেছে। আজও পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। সবারই প্রশ্ন ছিল একই, এখন তাহলে কী হবে? এজন্য একসঙ্গে বসে গঠনতন্ত্র পড়ে সবাইকে বলা হয়েছে, সামনে নির্বাহী কমিটির সভায় পদত্যাগপত্রগুলো তোলা হবে। সেখানে গৃহীত হলে পরবর্তীতে আইওসিকে জানানো হবে। আইওসির নির্দেশনা অনুসারে নেওয়া হবে পরবর্তী পদক্ষেপ।’
১৮ জুলাই ২৮ ফেডারেশনে কমিটি পরিবর্তন হয়েছে। নতুন কমিটির অনেকেই অলিম্পিকের নির্বাহী কমিটিতে নেই। ফলে প্রতিনিধিত্বের একটা সংকট তৈরি হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন থেকে ফেডারেশনগুলোতে কাউন্সিলরশিপ হালনাগাদের জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। অলিম্পিকের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবিএম শেফাউল কবীরের স্বাক্ষরে এই চিঠি অনেক ফেডারেশন পেয়েছে। যদিও মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা বলছেন, এ বিষয়ে তিনি অবগত নন।
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী কমিটির মেয়াদ চার বছর। নির্বাহী কমিটি ৩৭ জনের। ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর নতুন কমিটি গঠন হয়। এক বছর না যেতেই আট জনের পদত্যাগ। নির্বাহী সভা পর্যন্ত পদত্যাগের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে বলে আলোচনা চলছে ক্রীড়াঙ্গনে।
অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের নব-নির্বাচিত কমিটির শুরু থেকেই সমালোচনা ছিল মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা ও সহ-সভাপতি মেজর ইমরোজকে নিয়ে। তারা ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সার্চ কমিটিতে ছিলেন। বিশেষ করে রানা ছিলেন সার্চ কমিটির আহ্বায়ক। সার্চ কমিটি ফুটবল, ক্রিকেট বাদে সকল ফেডারেশন পুনর্গঠন করেছে। সার্চ কমিটির মনোনীত ব্যক্তিদের সিংহভাগই অলিম্পিকে কাউন্সিলর হন। ফলে এক প্রকার স্বার্থের সংঘাত ছিল। এ নিয়ে অলিম্পিকের নির্বাচন কমিশনকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সাবেক পরিচালক ক্রীড়া আমিনুল এহসান চিঠিও দিয়েছিল।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
