উপকূলীয় জনপদ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সুপেয় পানির সংকট দীর্ঘদিনের। লবণাক্ততার কারণে নিরাপদ পানির জন্য ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। এ সংকট নিরসনে উপজেলার খাগড়াঘাট ও কৈখালি গ্রামে স্থাপন করা হয়েছে দুটি পানি শোধনাগার। সৌর বিদ্যুৎচালিত এসব প্ল্যান্ট থেকে এখন বাড়ির কাছেই মিলছে সুপেয় পানি। এতে কমেছে দূর থেকে পানি সংগ্রহের দুর্ভোগ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সুপেয় পানির প্লান্ট দুটি উদ্বোধন করেন আবুল খায়ের গ্রুপের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল বিভাগের প্রধান শেখ শাবাব আহমেদ।
সুন্দরবনসংলগ্ন শ্যামনগরের উপকূলীয় গ্রাম খাগড়াঘাট ওকৈখালি। চারপাশে পানির উৎস থাকলেও লবণাক্ততার কারণে সেই পানি পান করা কঠিন। পুকুর ও নলকূপের পানিও অনেক ক্ষেত্রে পানযোগ্য নয়। ফলে এক কলস মিষ্টি পানির জন্য ছুটতে হতো দূর-দূরান্তে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তেন নারী ও শিশুরা।
এ সংকট মোকাবিলায় বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের গ্রুপের অর্থায়নে বসানো হয়েছে দুটি আধুনিক রিভার্স অসমোসিস বা আরও প্ল্যান্ট। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে চালু হওয়া প্ল্যান্ট দুটি থেকে এখন পানি সংগ্রহ করতে পারছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পানির গুণগত মান পরীক্ষাতেও মিলেছে শোধনাগার দুটির কার্যকারিতার প্রমাণ। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক পরীক্ষাগারের তথ্য অনুযায়ী, কৈখালির পানিতে শোধনের আগে প্রতি লিটারে মোট দ্রবীভূত কঠিন পদার্থ বাটিডিএস ছিল ৮ হাজার ২১৭ মিলিগ্রাম। শোধনের পর তা কমে হয়েছে ২৮ মিলিগ্রাম। খাগড়াঘাটে টিডিএসের পরিমাণ ৪ হাজার ৮১ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৯২ মিলিগ্রামে। প্রতি লিটার পানির ব্যবস্থাপনা খরচ রাখা হয়েছে ৫০ পয়সা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সিআর প্রধান ফেরদৌস ফয়সাল, বারসিক উপকূলীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শাহিন ইসলামসহ অন্যরা।
