পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানকে ঘিরেই দেশটির রাজনীতি আবর্তিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে প্রবীণ সাংবাদিক হামিদ মীর।
এক কলামে তিনি লিখেছেন, গভর্নর শাসনের নামে কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করা যাবে না। শাহবাজ শরিফের সরকার ‘ইমরান খান-ভীতির’ কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে এবং পাকিস্তানকে এক ধরনের বেসামরিক স্বৈরতন্ত্রের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে লেখা সাম্প্রতিক কলামে তিনি উল্লেখ করেন, ইমরান খানকে শিফা হাসপাতালে স্থানান্তরের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় খাইবার পাখতুনখাওয়ার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি একটি পদযাত্রার ঘোষণা দেন।
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য সরকার সোহেল আফ্রিদিকে দায়ী করে এবং ওই প্রদেশে গভর্নর শাসন ও জরুরি অবস্থা জারি করে, যার ফলে একটি নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।
নিজের কলামে পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করতে গিয়ে হামিদ মীর লেখেন, অতীতের তুলনায় ভিন্ন এক অবস্থানে দাঁড়িয়ে ইমরান খান কোনো ধরনের সমঝোতায় আসতে বা বিদেশে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
এর ফলে সরকার তার মুক্তি বা হাসপাতালে স্থানান্তরের বিষয়টি সহজ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ যদি বাস্তবায়িত হতো, তবে খাইবার পাখতুনখাওয়ার রাজনৈতিক সংকট, গভর্নর শাসন বা লং মার্চের মতো পরিস্থিতির উদ্ভব হতো না।
সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযানের নামে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পরিচালিত কার্যক্রম দেশকে বেসামরিক স্বৈরতন্ত্রের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে ওই প্রদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ওই প্রবীণ সাংবাদিক আরও উল্লেখ করেন, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উত্তেজনার এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন ভারত ও আফগানিস্তান সীমান্তে পাকিস্তান গুরুতর কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। পাশাপাশি ‘গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স ২০২৬’-এ পাকিস্তানের অবস্থান এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতিরই প্রতিফলন।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পথ পরিহার করে সকল রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করা হয়; যাতে বৈদেশিক ক্ষেত্রে সাফল্য ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা অর্জন করা সম্ভব হয় এবং এই অঞ্চলের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া যায়। সূত্র: উর্দু পয়েন্ট