আফগানিস্তানের বিভিন্ন স্থানে এফএম রেডিওতে বিবিসির সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে তালেবান সরকার। বিবিসির বিরুদ্ধে ‘বারবার নিয়ম লঙ্ঘনের’ অভিযোগ তুলে সাময়িকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। তবে কী ধরনের নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
মঙ্গলবার বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
তালেবান সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র খবাইব ঘুফরান স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘বিবিসি সংবাদমাধ্যমের বারবার কিছু নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে আপাতত সারা দেশে তাদের কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
সম্প্রচার বন্ধের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিবিসি। এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, আফগানিস্তানের লাখো মানুষ নির্ভুল সংবাদ ও তথ্যের জন্য বিবিসির ওপর নির্ভর করেন। পরিস্থিতি সমাধানে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
বিবিসি আরও জানিয়েছে, এফএম সম্প্রচার বন্ধ থাকলেও শর্টওয়েভ ও মিডিয়াম ওয়েভ রেডিও, অনলাইন এবং স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পশতু, দারি ও ইংরেজি ভাষায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন অব্যাহত থাকবে।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ২০ শতাংশেরও বেশি মানুষ প্রতি সপ্তাহে তাদের সংবাদ ও অন্যান্য অনুষ্ঠান শুনে থাকেন। এসব অনুষ্ঠানের মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত মেয়েদের জন্য তৈরি শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানও রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সংবাদমাধ্যমকে আফগানিস্তানে কার্যক্রম পরিচালনা থেকে নিষিদ্ধ করার পর বিবিসিই দেশটিতে সম্প্রচার চালিয়ে যাওয়া একমাত্র আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ছিল।
২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে আফগানিস্তানের গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার হয়েছে। দেশটিতে রেডিওতে গান সম্প্রচার করা হয় না। টেলিভিশনেও আগের তুলনায় নারীদের উপস্থিতি কমেছে এবং নারী-পুরুষকে একসঙ্গে সম্প্রচারে উপস্থিত হতে দেওয়া হয় না।
দেশটির কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা গেলেও বিদ্যুতের ঘাটতি, ইন্টারনেট ও অন্যান্য যোগাযোগসেবার উচ্চ ব্যয় এবং সাক্ষরতার নিম্ন হার মানুষের তথ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
১৯৮১ সাল থেকে আফগানিস্তানে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বিবিসির আফগান সার্ভিস। দীর্ঘদিনের এই সম্প্রচারসেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটির মানুষের সংবাদ ও তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এমএ
