October 13, 2026, 7:28 am
‘প্রাথমিক শাখা’ চালুর গুজবে ক্লাসবর্জন করে বিক্ষোভ শিক্ষার্থীদের
Reporter Name
- Update Time : Tuesday, October 13, 2026
- 15 Time View
জাতীয় ডেস্ক: বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক শাখা পুনরায় চালু করা হচ্ছে—এমন একটি গুজবের ভিত্তিতে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করেছেন একদল শিক্ষার্থী। গতকাল সোমবার সকালে প্রাত্যহিক সমাবেশ শেষ হওয়ার পরপরই কলেজটির উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির কিছু শিক্ষার্থীর নেতৃত্বে এই অসন্তোষ দানা বেঁধে ওঠে। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কলেজটির অধ্যক্ষ এবং স্থানীয় জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। মূলত কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট তথ্য বা নিশ্চিত সিদ্ধান্ত ছাড়াই শুধুমাত্র গুজবের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি পালন করেছে বলে জানা গেছে। আন্দোলন চলাকালে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে উত্ত্যক্ত শিক্ষার্থীরা সরাসরি অধ্যক্ষ অধ্যাপক তপন কুমার সাহার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন এবং তাঁকে ঘিরে ধরে ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও উসকানিমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, দ্বাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষককে নিয়ে কটূক্তি করেন এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভাষায় জবাবদিহি চান। এ সময় অধ্যক্ষ অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের অনুরোধ জানান। কিন্তু ওই শিক্ষার্থী তাতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
শিক্ষকদের একাংশের প্রত্যক্ষ উসকানিতেই শিক্ষার্থীরা এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে বলে তীব্র অভিযোগ উঠেছে। এক অভিভাবক গণমাধ্যমকে জানান, প্রতিষ্ঠানের কিছু জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের ইন্ধন ছাড়া শিক্ষার্থীরা হঠাৎ এভাবে আন্দোলনে নামতে পারে না। অতীতের কোনো এক সময়ে কার স্বার্থে এবং কার নির্দেশে প্রাথমিক শাখাটি বন্ধ করা হয়েছিল, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে উন্মোচন করা জরুরি। মূলত অভ্যন্তরীণ শিক্ষক রাজনীতি ও স্বার্থের সংঘাতের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
ঘটনার সম্পূর্ণ পটভূমি ব্যাখ্যা করে অধ্যক্ষ তপন কুমার সাহা জানান, দুই হাজার সাত সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই প্রতিষ্ঠানে তৃতীয় শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতো। পরবর্তীতে তৎকালীন প্রশাসনের সিদ্ধান্তে প্রাথমিকে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা অভিভাবকদের দাবির প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক শাখা চালুর আহ্বান জানান। এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্তির শিকার হয়ে আন্দোলনে নেমেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমানে কলেজে স্থায়ী শিক্ষকের সংকট রয়েছে এবং খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চালাতে হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক ও স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মামুন খন্দকার জানিয়েছেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রাথমিক শাখা পুনরায় চালু করার বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত বা উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীরা ঠিক কী তথ্যের ভিত্তিতে এবং কার প্ররোচনায় এই আকস্মিক আন্দোলনে জড়াল, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সচেষ্ট রয়েছে কর্তৃপক্ষ।
More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com


