বান্দরবান বেতন-ভাতা ও বিল আটকে রাখার অজুহাতে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহচর হাসপাতালের হিসাব রক্ষক সুভাষ দাশের নেতৃত্বে একটি দল।
আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে সদর হাসপাতালের কর্মচারী সুভাষ দাশের নেতৃত্বে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে নাশকতা সৃষ্টির এ পাঁয়তারা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সিভিল সার্জনসহ তার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।
খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে প্রকাশ্যে হাসপাতালের সব সেবা বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের এই দোসররা।
এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে জেলাজুড়ে। স্থানীয় রোগীসহ ভুক্তভোগীদের দাবি, বেতন-ভাতার দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ কিংবা অন্য কর্মসূচি পালনের সুযোগ থাকলেও একজন কর্মকর্তার কক্ষে তালা লাগিয়ে ভেতরে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের, বিশেষ করে নারী কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। নিজেদের বেতন-ভাতার দাবির অজুহাতে আন্দোলন করতে গিয়ে অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা কতটা যৌক্তিক? দাবি আদায়ের জন্য কর্মসূচি পালন করা অধিকার হলেও, এর কারণে অন্যদের চলাচল বাধাগ্রস্ত করা কিংবা তাদের আটকে রাখার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করছেন সুধীজনরা।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, হাসপাতালের ওষুধ সরবরাহ ও যন্ত্রাংশ ক্রয়ের টেন্ডার নিয়ে সিভিল সার্জনের সঙ্গে হিসাব রক্ষব সুভাষ দাসের বনিবনা না হওয়ায় দীর্ঘ দুই মাস সুভাষ দাস ছুটির আবেদন করে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে অসুস্থতার সার্টিফিকেট দেখিয়ে কর্মস্থলে যোগদান করেন। এরপর বেতন-বিল আটকে থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে তালা লাগান তিনি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহীন হোসাইন জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে তাকে বান্দরবানে পদায়ন করলেও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ তার যোগদানপত্র গ্রহণ করছে না। এ কারণে তিনি কর্মচারীদের বেতন বিলের কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতে পারছেন না। ফলে আটকে রয়েছে তাদের বেতন-বিল।
অন্যদিকে, দ্রুত বেতন বিলের সমস্যার সমাধান না হলে পরবর্তী কর্মবিরতির পাশাপাশি হাসপাতালে তালা লাগানোরও ঘোষণা দিয়েছেন কর্মচারী সুভাষ দাশের নেতৃত্বে একটি পক্ষ।
হিসাব রক্ষক সুভাষ দাস বলেন, আমিসহ হাসপাতালের অন্য কর্মচারীদের দুই মাসের বেতন বন্ধ রয়েছে। জেলা পরিষদ থেকে ডেপুটি সিভিল সার্জনকে বেতন বিলে স্বাক্ষর করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি আমাদের বেতন-বিলে স্বাক্ষর করছেন না।
এ বিষয়ে ডেপুটি সিভিল সার্জন বলেন, জেলা পরিষদ থেকে যে অফিস অর্ডার করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমি অবগত নই। বিশেষ করে শুধু পরিষদ থেকে দায়িত্ব দিলে হবে না, মন্ত্রণালয় থেকে দায়িত্ব দিতে হবে। তাহলে আমি বেতন-বিলে স্বাক্ষরসহ আয়-ব্যয়ের কাজগুলো করতে পারব। অফিসের নিয়মের বাইরে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই।
