এসআইআর বিতর্কের আবহে নির্বাচন কমিশনকে ফর্ম ৬ সংশোধনের প্রস্তাব দিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। তিনি প্রস্তাব করেছেন, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর সময় যাদের নাম বাদ পড়েছিল, তাঁরা যাতে নিজেদের নতুন ভোটার ঘোষণা না করে পুনরায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হোক। মহারাষ্ট্রের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানিয়েছেন, তিনি চান এসআইআরে যাঁরা ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, সহজতর প্রক্রিয়া তাঁদের পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক। সেই কারণে ফর্ম ৬ সংশোধনের প্রস্তাব।
সূত্রের খবর, গত সপ্তাহেই প্রস্তাবটি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হল ‘ফর্ম ৬’-এ থাকা বর্তমান ঘোষণাপত্রটি নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করা। যেহেতু এই ফর্মে আবেদনকারীদের উল্লেখ করতে হয় যে, তাঁরা প্রথমবারের মতো ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করছেন। সাধারণত ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীরা ‘ফর্ম ৬’ ব্যবহার করেন। তবে, এসআইআরের সময় যাঁরা ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, তাঁদের পুনরায় তালিকাভুক্তির আবেদনের জন্যও এই ফর্মটি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এর ফলে একটি ব্যবহারিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। যেসব ভোটারের নাম আগে থেকেই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল, কিন্তু এসআইআরে বাদ পড়েছে। তাঁরা ‘ফর্ম ৬’ জমা দিতে দ্বিধাবোধ করতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন, এই ভোটারদের ধারণা হতে পারে, নিজেদের প্রথমবার ভোটার হিসেবে ঘোষণা করাটা হয়তো মিথ্যা তথ্য দেওয়ার শামিল। উল্লেখ্য, ১৯৫০ সালের ‘রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপল অ্যাক্ট’-এর ৩১ নম্বর ধারার অধীনে, আবেদনকারী জেনেবুঝে মিথ্যা তথ্য দিলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হবে। হতে পারে জরিমানাও।
এই অবস্থায় মহারাষ্ট্রের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সুপারিশ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। অন্যতম হল, ফর্ম ৬-এর শিরোনাম থেকে ‘নতুন ভোটার’ শব্দবন্ধ তুলে দেওয়া। এছাড়াও যে আবেদনকারীর নাম আগে কোনও বিধানসভা কেন্দ্রে নথিভুক্ত ছিল কিন্তু বর্তমানে আর কোথাও তালিকাভুক্ত নেই এবং পুনরায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে চাইছেন, তাঁদের জন্য একটি বিকল্প ঘোষণার ব্যবস্থা করা। এবং সর্বশেষ হল, নির্বাচনী আধিকারিকদের পূর্বের ভোটার তালিকাভুক্তি চিহ্নিত করতে সাহায্য করার জন্য আবেদনকারীদের তাঁদের আগের ভোটার আইডি নম্বর দেওয়ার সুযোগ প্রদান করা। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
