Published on
:
1 min read
এই সময়, বালুরঘাট: শেষ কবে চিঠি লিখেছেন, মনে পড়ে? পোস্টকার্ডে বা ইনল্যান্ড লেটারে প্রিয়জনের নাম, নীচে যত্ন করে লেখা ‘উত্তর দিও’। মোবাইলের স্ক্রিনে টাইপ করতে করতে আমরা ভুলেই গেছি সেই অপেক্ষার আবেগ।
পোস্টম্যানের সাইকেলের ঘণ্টিটা এখন শুধুই স্মৃতি। সেই স্মৃতিকেই এবার মণ্ডপে ফিরিয়ে আনছে বালুরঘাটের চকভৃগু প্রগতি সংঘ। দুর্গা প্রতিমা দেখার ফাঁকে অনেকেই খুঁজে পাবেন নিজের ফেলে আসা একটা চিঠি, একটা অপেক্ষা, ডাকপিয়নের সাইকেলের শব্দ।
৬৭তম বর্ষে তাদের থিম ‘ডাকঘর’। ক্লাব কর্তারা বলছেন, এটা শুধু একটা থিম নয়, একটা সময়কে ফিরে দেখা। যখন ডাকঘর মানেই ছিল ভরসা। চাকরির খবর, মানি অর্ডার, বিদেশে থাকা ছেলের চিঠি, প্রেমিকার ভাঙা ভাঙা হাতের লেখা। সব এসে জমা হতো ওই লাল বাক্সে। সেই লাল বাক্স, সেই পুরোনো ডাকঘরের জানলা, সেই হলুদ হয়ে যাওয়া পোস্টকার্ড, সবকিছু নিয়েই তৈরি হচ্ছে এ বারের মণ্ডপ (Durga Puja 2026 )।
থার্মোকল বা প্লাস্টিক নয়, গোটা মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে একেবারে পরিবেশবান্ধব উপকরণে। বিভিন্ন ফলের বীজ, ধানের শিষ, কাঠ, বাঁশ আর প্লাই দিয়ে সাজানো হচ্ছে ডাকঘর। কাজ করছেন কাঁথির শিল্পীরা। মণ্ডপ তৈরির দায়িত্বে যোগমায়া ডেকোরেটর্সের সমীর দাস। প্রতিমা সাবেকিয়ানা। গড়ছেন মৃৎশিল্পী উজ্জ্বল পাল। বাজেট প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা। সঙ্গে থাকছে চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা।
ক্লাব সম্পাদক সঞ্জয়কুমার সাহা বলেন, ‘আমরা প্রতি বছর নতুন ভাবনা দেওয়ার চেষ্টা করি। এ বার আমরা চেয়েছি নতুন প্রজন্মকে দেখাতে, চিঠির মধ্যে কতটা আবেগ ছিল। পুজোর দিনগুলোতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও থাকবে।’ ক্লাব সভাপতি উত্তম মহন্তের কথায়, ‘ডাকঘর এখনও অনেকের কাছে আবেগ। সেই আবেগটাকেই আমরা মণ্ডপে তুলে ধরেছি। আর সবটাই করেছি পরিবেশবান্ধব জিনিস দিয়ে, যেটা মানুষের নজর কাড়বেই।’ শুধু থিম নয়, সারা বছর রক্তদান শিবির থেকে বস্ত্র বিতরণ, সমাজসেবায় সক্রিয় এই ক্লাব।